রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয়ে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আগের চার আসামিসহ এখন পর্যন্ত ১০ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হলো।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন।
ছয় আসামি হলেন– মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহআলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২) ও মো. শাকিল (২০)। এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহআলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
এদিন আসামিপক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী মুহাম্মদ এমরান। পরে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে জামিন শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।
এর আগে এই মামলায় শনিবার আসামি মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান ও মো. রাব্বিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহ আলী থানা এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করেন। তারা সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্বরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আবদুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে আটকে রাখেন। এরপর হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
এতে আরও বলা হয়, হামলাকারী ব্যক্তিরা প্রথমে প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমি পাকা ঘর এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে ভেঙে ফেলেন। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এরপর পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমি পাকা ঘর ও আসবাব ভাঙচুর করা হয়, যাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার লাখ টাকা।
এজাহার অনুযায়ী, তাণ্ডব চালিয়ে ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমি পাকা ঘর এবং সেখানকার আসবাব ও চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করা হয়; এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষতি করা হয় আরও প্রায় ২০ লাখ টাকার।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহআলী থানায় মামলা করেন।