Image description

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদিরিয়া ইউনিয়নে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মারা গেছে পাঁচ বছরের শিশু নুসরাত জাহান আলিফা। তার মৃত্যু পানিতে ডুবে হয়েছে বলে মায়ের পরিবারের সদস্যরা দাবি করলেও শিশুটির বাবা দিদার হোসেনের অভিযোগ, আলিফাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আলিফার মরদেহ বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে চর জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের একটি মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

 

জানা গেছে, মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল আলিফা। সেখান থেকে আর বাবার কাছে ফিরে আসেনি সে। রোববার বিকেলে তার মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা। প্রথমে বিষয়টি স্বজনদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি করলেও পরে শিশুটির মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। আলিফা পানিতে ডুবে মারা গেছে, নাকি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।

 

নিহত নুসরাত জাহান আলিফা চর জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের দিদার হোসেনের মেয়ে। তার মা মর্জিনা আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার চর কাদিরিয়া ইউনিয়নের কিল্লার রোড চৌকিদার বাড়ি এলাকায়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে দিদার হোসেন ও মর্জিনা আক্তারের বিয়ে হয়। ব্যবসার কারণে দিদার অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকেন। তাদের সংসারে জন্ম নেয় আলিফা। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে মর্জিনা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

 

শিশুটির বাবা দিদার হোসেন বলেন, আমার মেয়েটা আমার কাছে খুব আদরের ছিল। গত শনিবার মোবাইল ফোনে মর্জিনার সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সে আমাদের সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে আমি মনে করি। পরদিন বিকেলে খবর পাই, আমার মেয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে। আমি এখন আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চাই।

 

দিদারের অভিযোগ, আলিফার মৃত্যু নিছক পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা নয়। তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তিনি। শিশুটির নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টিও তার সন্দেহ বাড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

তবে শিশুটির মায়ের পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, আলিফা পানিতে ডুবে মারা গেছে। শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেন তারা।

 

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।