ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা না হলেও গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনে জামায়াত থেকে যারা প্রার্থী হবেন তারা ঘরে ঘরে গিয়ে গণসংযোগ করলেও বিএনপি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা হাট-বাজারে প্রচারণা চালাচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুরের পীরগাছা উপজেলার একটি ইউনিয়নের বিএনপির মনোনীত সম্ভাব্য চেয়ারম্যানপ্রার্থী ভোটারদের দোয়া চাইতে গিয়ে হোঁচট খেলেন। আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন দোয়া চাইতে এসেছেন, শুনেই এক কৃষক বিস্ময়কণ্ঠে প্রশ্ন করেন, ‘আবার বিএনপিকে ভোট দেব?’ ডিলার সার দেয় না, সেচের জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের (কৃষক) জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।
তারপরও বিএনপিকে ভোট!’ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার লোক দেখানো হলেও বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আগে ‘গণশুনানি’ নাটক করতেন। বৈশ্বিক বাজারে যখন জ্বালানির দাম কমছে তখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ৭ মাসে তিন দফায় জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীকে ‘একজন কৃষক ভোটারের ছোট্ট এ বার্তায়’ প্রকাশ পেয়েছে গোটা দেশের চিত্র। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীরা যে ভোট চাইতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হবে সেটা বোঝাই যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গতকালও বলেছেন, ‘সরকার ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চায়’। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা যখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন; তখন জ্বালানির দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি করে জনগণকে কি বার্তা দেয়া হলো?
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যেই ‘বিএনপি সরকারকে গণবিরোধী এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে’ প্রচার শুরু করেছে। এর মধ্যে কৃষক, শ্রমিকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষকে বিপদে ফেলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলো কারা? যারা সরকার চালাচ্ছেন, প্রশাসনে নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাদের সঙ্গে কি জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই? তারা কি চলমান রাজনীতির কোনো খোঁজখবর রাখেন না? তাহলে বিপর্যস্ত অর্থনীতি, বেকারত্ব, বিদেশী বিনিয়োগে বন্ধ্যাত্বের মধ্যে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলো।
২২ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনার সময়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হলে প্রতিবাদ করতাম। শুধু প্রতিবাদ নয়, হাসিনার পদত্যাগ চাইতাম। এখন সেটা চাওয়া উচিত হবে না। কারণ, এই সরকার একটা নির্বাচিত সরকার, এটা আমাদের সরকার। তাই আমরা এটুকু কাইন্ডনেস জনগণের কাছে চাইব। জ্বালানির দাম বাড়ানোয় জনগণের কষ্ট হচ্ছে, কষ্ট হবে। আমরা আগেও যখন অয়েল নিয়ে কথা বলছি এটা কোথায় হচ্ছে না? প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে এমন বক্তব্য দেন; তখন বিরোধী দল ‘সরকারকে গণবিরোধী’ আখ্যা দেবে সেটাই স্বাভাবিক।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) সরকারের জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে ‘অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছে। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া জামায়াত, এনসিপি’র মতো দলগুলো যেন সরকারের এমন সিদ্ধান্তের জন্য মুখিয়ে ছিল। জ্বালানির দাম বাড়ানোয় তারা বিএনপি সরকারকে ‘গণবিরোধী’ অভিহিত করে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। একই অবস্থা বাস মালিক, লঞ্চ মালিক এমনকি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ১২ ঘণ্টার মধ্যে বাস ভাড়া এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঞ্চ ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময় এমন পরিস্থিতিতে সপ্তাহ-মাস সময় নিয়ে ভাড়া বাড়ানো হতো। ট্রাক মালিকরা জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যে নিজেরাই পরিবহন ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে।
এমনিতেই অর্থনীতিতে নেই কোনো গতি। বিদেশী বিনিয়োগ নেই, বেকারত্ব বাড়ছে হুহু করে। আইন-শৃংখলার চরম অবনতি, জান-মালের নিরাপত্তা নেই, খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেশি। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সেবা তলানিতে। অর্থমন্ত্রী জাতিকে ৭ মাসে ‘অর্থনীতির কোনো দিশা’ দেখাতে পারেননি। দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা একের পর এক হুংকার ছাড়ছেন। দেশের ভিতরে বিরোধী দল জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের আওয়াজ ‘এই সরকারকে আর জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না’, ‘এ সরকার গণবিচ্ছিন্ন’ ‘মানুষ বিএনপি সরকারকে আর বেশিদিন ক্ষমতায় রাখবে না’ এমন আওয়াজ তুলে লংমার্চ করছে; তখন রাতের আঁধারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করে বিএনপি সরকার জনগণকে কি বার্তা দিচ্ছে? জ্বালানির দাম বৃদ্ধির নেপথ্যের কারিগর কারা? জ্বালানির দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব যখন সর্বত্রই; সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে; তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেড়শ’ টাকায় দুপুরের খাবার খান, সাধাসিধে জীবন যাপন করেন, যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পথে তুরস্কে হোটেলে নিজেই বুফে থেকে খাবার সংগ্রহ করে খান, এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এমন প্রচারণা কি জনগণের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ বাড়বে? এইচ এম এরশাদও এক সময় সাইকেল চালিয়ে অফিস করেছেন। শেখ হাসিনা টুঙ্গীপাড়ায় ভ্যানে চড়ে পিতার কবর জেয়ারত করেছেন। তাতে কি তাদের ইমেজ বেড়েছে?
জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। সর্বত্রই এ নিয়ে সমালোচনা। বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, রাতের আঁধারে সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দেয় সামরিক শাসকরা। বর্তমান সরকার নির্বাচিত। তারা এমন করবে কেন? ভবিষ্যতে জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের আগে অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানির ওপর প্রযোজ্য শুল্ক, কর ও ভ্যাট সাময়িকভাবে সমন্বয় করা, ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে কৃষি সেচ, গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ও জরুরি সেবায় ডিজিটালভাবে যাচাইযোগ্য লক্ষ্যভিত্তিক জ্বালানি সহায়তা চালু করা প্রয়োজন।
জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জ্বালানির দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে এ খাতের অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাবে। যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে। স্বল্প ও নির্ধারিত আয়ের মানুষের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করতে তুলবে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর ড. আবু আহমেদ বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পরোক্ষ প্রভাবে বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায়ীরা ও পরিবহন খাত এই অজুহাত ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপাবে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশীয় শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে এ খাতে লুটপাট, দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হলে বাজারে জ্বালানি সংকট ও দামের ওপর সরকারি একচেটিয়া চাপ কমে যাবে।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচনের ৭ মাস পরও স্বাভাবিকতা ফিরে আসেনি। অর্থনীতির দুরবস্থা যে তিমিরে ছিলো এখনো সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আর্থিক সেক্টরে কোনো ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি। ঋণ খেলাপী গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয়ার পর দেশে ঋণ খেলাপির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাংকিং সেক্টরে স্বাভাবিকতা ফিরে আসেনি। অথচ অর্থমন্ত্রী মাসের প্রায় অর্ধেক সময় বিদেশ কাটিয়ে দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরণের বদলে বাগড়াম্বর করেন বেশি। প্রধানমন্ত্রীর কিছু পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সেক্টরে কিছুটা ভোগান্তি কমলেও জ্বালানির মূল্যবৃ্িদ্ধ কৃষক, শ্রমিক, ক্ষেতমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে।
অর্থনীতিতে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ডিজেল, যা দেশের পরিবহন, কৃষি ও পণ্য সরবরাহের মূল চালিকাশক্তি। ফলে জ্বালানির এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি বাস ও পণ্য পরিবহন ভাড়া অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে পড়ে গেছে।
হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধিতে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধিতে বাস, ট্রাক ও নৌকার ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন খরচ বাড়ায় বাজারে সব ধরনের খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ ক্রয় ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, কৃষির জন্য অপরিহার্য সার বহন ও কৃষিপণ্য বাজারে নেয়ার পরিবহন খরচ বাড়ায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন মূল্য ও বাজারমূল্য বেড়ে যাবে, শিল্প ও কারখানার উৎপাদন ও জেনারেটর চালানোর খরচ বাড়ায় সামগ্রিক শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হবে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে পোশাক ও ভারী শিল্পের প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক ও সীমিত আয়ের মানুষ আর্থিক সংকটে পড়ে গেছে। এমনিতেই বেকারত্বের যন্ত্রণা তারউপর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান খরচ কমাতে কর্মী ছাঁটাই বা নিয়োগ সংকুচিত করতে বাধ্য হবে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, সরকার এর আগে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এখন তেলের দাম বাড়াল। এরপর হয়তো গ্যাসের দামও বাড়াবে। মানুষের টিকে থাকা চরম কঠিন হবে। এর আগে সরকারি চাকরিজীবী ১৪ লাখ মানুষের বেতন বাড়িয়ে বাকিদের বেশির ভাগের অবস্থা করুণ। মানুষের যদি কেনার সামর্থ্য না থাকে, শুল্ক-কর কোথা থেকে আসবে?
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্তরায় আখ্যা দিয়ে বলছে, কোনো ধরনের আলোচনা, গণশুনানি, জনপরামর্শ ও অংশীজনের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা কিংবা মূল্যবৃদ্ধির সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাবের ‘প্রকাশ্য মূল্যায়ন’ ছাড়াই এই দাম বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা ও রাজস্ব চাপের অজুহাতে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী, অপরিণামদর্শী ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্তরায়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ১৫-২০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে বিগত পাঁচ মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বিশাল সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশাহারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করবে এবং তাদের দুর্ভোগকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আগে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা, ব্যয় সংকোচন, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।
এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারের নজিরবিহীন অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার খেসারত আবারও দিতে হচ্ছে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে। সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও সৃজনশীল বিকল্প খুঁজে বের করার পরিবর্তে সরাসরি জনগণের ওপর অসহনীয় বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে বিএনপি সরকার। ক্ষমতায় আসার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এ নিয়ে তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো। বিপিসির মুনাফার হাজার হাজার কোটি টাকা যদি অন্য খাতে ব্যয় করা সম্ভব হয়, তাহলে এখন সংকটে অন্য খাতে কাটছাঁট করে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে না কেন? কেন বারবার সাধারণ মানুষের পকেটকেই সরকারের সহজ লক্ষ্য বানানো হচ্ছে?