বালু দিয়ে নদী ভরাটের অভিযোগে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ম্যানেজার (অ্যাডমিন) ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে বালু বহনের কাজে ব্যবহৃত সোহা মেসার্স মদিনার পথের মালিক মুক্তার হোসেন ও নাজমুল আলম নাহিদের এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি এ রায় দেন। তবে আসামিরা উপস্থিত না থাকায় তাদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু আব্দুল্লাহ জাজান এ তথ্য জানান।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল, দূষণ ও মৃতপ্রায় নদীগুলো হাইকোর্টের এক রিটের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসক বিআইডব্লিউটিএ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ/সংস্থা দূষণ রোধ করে নির্দেশনা দেন।
তায় টঙ্গী নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রাধীন খিলক্ষেত থানার পাতিরা মৌজায় ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর বালুনদী পরিদর্শনে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিআইডব্লিউটিএ। সেখানে গিয়ে তারা দেখেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ কর্তৃক সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুট বালুনদীর তীরভূমি ও নদীগর্ভ ভরাট করেছে। পরে স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন আসামি বালু দিয়ে নদী ভরাট করেছে। এ ঘটনায় গাজীপুরের টঙ্গী নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম সেদিনই খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে ২০২২ সালের ৩১ মে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন খিলক্ষেত থানার এসআই সোহরাব হোসেন। ২০২৩ সালের ১৬ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৮ জন সাক্ষীর মধ্যে তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।