Image description

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমার পিএইচডির সাবজেক্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘এমজিআই-এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়া থাকাকালীন রিসার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এবং আমার রিসার্চের সাবজেক্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমি ওনার সঙ্গে লন্ডনে দেখা করতে গেলে উনি আমার হায়ার স্ট্যাডিজ টপিক দেখে বললেন, ভেবেছিলাম কোনো একদিন সুযোগ পেলে আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ে কাজ করাবো, কিন্তু আপনার টপিক দেখে ভাবলাম আপনাকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। পরবর্তীতে তিনি আমার টপিক কেটে দিয়ে হায়ার-এর জায়গায় টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল এডুকেশন এন্ড ট্রেইনিং (TVET) লিখে দিলেন। এটিই হচ্ছে উনার চিন্তাভাবনা ও দূরদর্শিতা। আর উনিই এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী।’

তিনি বলেন, ‘আজকের নতুন যুগে এআই এবং আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শিক্ষার ধরন বদলে গেছে। আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষায় যে বাজেট ও গুরুত্ব দিচ্ছে, তার সুফল পাবে তরুণ প্রজন্ম।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে যে সমন্বয় বা লিংকেজ থাকা দরকার, তা এখনো যথেষ্ট নয়। চীন বা উন্নত বিশ্বে দেখা যায়, বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকে। সেখানে প্রাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হয় এবং কোম্পানিগুলো তাদের সরাসরি হায়ার (নিয়োগ) করে।’

 শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মেধা কোনো অবস্থাতেই বিশ্বের অন্য কোনো নাগরিকের চেয়ে কম নয়। আল্লাহ আমাদের কাউকে মেধা দিয়ে ঠকাননি। উন্নত বিশ্বের মানুষের যে মেধা রয়েছে, আমাদেরও তা আছে। চীন যেমন নিজেদের চেষ্টায় উন্নত হয়েছে, আমরাও আমাদের দেশকে সেভাবেই উন্নত করব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়াশোনার সময়ের স্মৃতিচারণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি যখন সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের ভিপি ছিলাম, তখন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘এলাকা অ্যাসোসিয়েশন’ গঠনে উদ্যোগী হই। তখনকার সময়ে নামমাত্র খরচে মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল।’’

অ্যালামনাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৪০ বছর পূর্তি উদযাপনের সময় আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম যাতে বেকার অ্যালামনাইদের চাকরির ব্যবস্থা করা যায়। অনুষ্ঠানে আগত তৎকালীন বিভিন্ন সচিব ও মন্ত্রীদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে অনেক প্রার্থীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’ মার্কেটিং বিভাগের এই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনও অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশেও এ ধরনের ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া লিংকেজ জোরদার করা প্রয়োজন, যেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া মাত্রই আমাদের শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও দক্ষতা কোনো অংশে কম নয়। আমি নিজেও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হয়েও বিদেশে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং-এ এমবিএ করেছি, যেন সময় ও চাহিদার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি। পরবর্তীতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।’