Image description

পরিচয় গোপন করে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ঘোরাফেরা করা ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরের পরিচয় পাওয়া গেছে। প্রথমে সে নিজেকে চট্টগ্রামের বাসিন্দা হিসেবে মিথ্যে পরিচয় দেয়। পরে জানা যায় সে একজন রোহিঙ্গা। এরপর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তার সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লিগ্যাল অফিসারের মাধ্যমে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ কিশোর আব্দুল ওয়াহিদকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। স্থানীয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনি সহায়তা কেন্দ্র বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) সহযোগিতায় এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

 

পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন পঞ্চগড় সদর উপজেলার সোনালী ব্যাংক অটোস্ট্যান্ডের সামনে একা একা ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয় লোকজন কিশোরটিকে থামিয়ে তার পরিচয় জানতে চান। কোনো স্পষ্ট জবাব না পেয়ে পরে তাকে পঞ্চগড় সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে নিজের নাম আব্দুল ওয়াহিদ (১৫), বাবার নাম মো. জাকির আহমদ, মায়ের নাম মোছা. রাশেদা বেগম এবং বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার কালুরঘাট (সিও অফিস) এলাকায় বলে মিথ্যা তথ্য দেয়।

 

এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় গত ২৩ জুন একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে দীর্ঘ চেষ্টা করেও সে সময় তার কথিত পরিবারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়।

 

আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে থাকাকালে তার দেওয়া পরিচয় ও কথাবার্তা নিয়ে শিক্ষকদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। পরে তারা বিভিন্ন কৌশলে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান চালাতে থাকেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে কিশোরটির রোহিঙ্গা পরিচয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলে। পরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার প্রকৃত পরিচয় ও পরিবারের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়।

 

আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সমাজকর্মী মো. ইউসুফ আলী বলেন, কিশোরটি প্রথমে চট্টগ্রামের ভুল ঠিকানা দিয়েছিল। পরবর্তীতে তার পরিচয় নিয়ে আমরা বিশেষ অনুসন্ধানে নামলে সে রোহিঙ্গা বলে জানতে পারি। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাথে যোগাযোগ করে পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল অফিসারের মাধ্যমে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল জানান, কিশোরটি প্রথমে নিজেকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল। পরবর্তীতে আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীর শিক্ষকদের অনুসন্ধানে তার প্রকৃত রোহিঙ্গা পরিচয় উন্মোচিত হয়। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লিগ্যাল অফিসারের সহযোগিতায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।