রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগের হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী বরিশাল বিভাগে। দ্রুত মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) সারা দেশে নতুন ৩৪২ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩২ হাজার ৫৯০ জন। মারা গেছে ৮৮ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২ হাজার ৮০ জন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘ঢাকার বাইরে বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ডেঙ্গুরোগী বাড়তে শুরু করেছে। এসব এলাকা এডিস মশার হটস্পট হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ হতে পারে। এখনই মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বরিশালে : ঢাকার বাইরে আক্রান্তের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে বরিশাল বিভাগ। চলতি বছর এ বিভাগে ৫ হাজার ৪৪৯ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৫৬ জন। মারা গেছে আটজন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ৬৩ জন।
চট্টগ্রাম বিভাগ রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। এ বিভাগে চলতি বছর ৫ হাজার ৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৬৩ জন। মারা গেছে পাঁচজন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ৯৩ জন, যা দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
খুলনা বিভাগেও ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্য। চলতি বছর এ বিভাগে ৪ হাজার ৭৮০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৭৫ জন, যা বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এ বিভাগে মারা গেছে ১৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কেউ ভর্তি না হলেও বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঢাকা মহানগরী বাদে বিভাগের বিভিন্ন জেলায়ও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলে চলতি বছর ৪ হাজার ৩৯৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মারা গেছে তিনজন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৯২ জন।
ময়মনসিংহ বিভাগে চলতি বছর ১ হাজার ৬৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৭৯ জন। মারা গেছে আটজন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ২৮ জন। রাজশাহী বিভাগে চলতি বছর ১ হাজার ৬৬৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৫৩ জন। মারা গেছে চারজন। রংপুর বিভাগে ভর্তি হয়েছে ৮৫৯ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩০ জন। মারা গেছে একজন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ২৩ জন। সবচেয়ে কম আক্রান্ত সিলেট বিভাগে। চলতি বছর এ বিভাগে ১৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে সাতজন। মারা গেছে একজন।
যেসব জেলায় রোগী বেশি : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলা ও হাসপাতালভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, ঢাকার বাইরে কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। বরিশাল জেলায় চলতি বছর ১ হাজার ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পিরোজপুরে এ সংখ্যা ১ হাজার ৪৩১ এবং ঝালকাঠিতে ১ হাজার ২৬৭। ঝালকাঠিতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪১ জন। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি।
চলতি বছর এ জেলায় ৮৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বান্দরবানে ভর্তি হয়েছে ৫৫১ জন। খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনা জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চলতি বছর এ জেলায় ২ হাজার ৪৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৭৫ জন। মারা গেছে ১৫ জন। যশোরে ৪৩১, মাগুরায় ৩০৬, নড়াইলে ১৮৮ ও কুষ্টিয়ায় ১০২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৯৩ ও সিরাজগঞ্জে ৪৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রংপুর বিভাগের নীলফামারীতে এ পর্যন্ত ১১৯ ও দিনাজপুরে ১৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।