Image description

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রাথমিক দিকে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র। আর এর জের ধরেই দেশটিতে যৌথ হামলা চালানোর দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সংঘাতের ছয় মাস পরে এসে সেই ‘পারমাণবিক বোমা’র চেয়েও বড় শক্তির জানান দিল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে দর-কষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান। বর্তমানে দুপক্ষের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে সংবেদনশীল এই প্রণালি রীতিমতো বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি আলি হাশেম বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

 

তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক সব আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই চলে এসেছে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়টি।

 

তিনি বলেন, অথচ যুদ্ধ শুরুর একদম প্রাথমিক পর্যায়ে বৈশ্বিক আলোচনার মূল ক্ষেত্র ছিল মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম এবং মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলজুড়ে থাকা তাদের সশস্ত্র মিত্র বা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো।

 

আলি হাশেম আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাত আগের যে কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তুলনায় একদম ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গেছে। ফলে সংঘাতপূর্ব পরিস্থিতি আর সংঘাত পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা কখনোই আর আগের মতো থাকবে না।

 

তার মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান এমন একটি অমোঘ ও শক্তিশালী কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে, যাকে সামরিক বিশ্লেষকরা ইরানের ‘ভৌগোলিক পারমাণবিক বোমা’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

 

কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে অচল করার ক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তিনি। আলি হাশেম বলেন, বিশ্ব জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের এই প্রধান রুটটিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার বা অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা ইরানের হাতে এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চের যে কোনো পরাশক্তি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বাধ্য।