পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে বন্দি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ‘মানসিক নির্যাতন’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিম খান। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, মানবতা আজ কোথায়?
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সুলেমান ও কাসিম খান জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে তাঁরা বাবার কণ্ঠ শুনতে পাননি। গত মার্চে ঈদুল ফিতরে মাত্র ২০ মিনিটের জন্য ফোনে বাবার সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁদের।
ইমরান খানের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাসিম খান বলেন, ‘চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার মধ্যে মানবতা কোথায়? এটি নির্যাতন কৌশল। বাবাকে বই পড়তে দেওয়া হচ্ছে না, আমাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। দিনে ২৩ ঘণ্টা নির্জন কুঠুরিতে আটকে রাখা হচ্ছে। সরকার যদি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে, তবে তা প্রমাণ করুক। বাবাকে নিরপেক্ষ কোনো চিকিৎসক ও হাসপাতালে নেওয়া হোক এবং মেডিকেল রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।’
সুলেমান বলেন, ‘সরকারি চিকিৎসকদের বলে দেওয়া হয় তাদের কী বলতে হবে। কর্তৃপক্ষ আসলে কী লুকাতে চাইছে?’
তবে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ইমরান খানকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং কারাবিধি অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা তাঁকে স্থিতিশীল বলে মত দিয়েছেন।
মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইমরান খানকে মাংস, মুরগি, ফল, দুধ ও জুসসহ বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত ১৯৮ সেশনে ৯০০ জনের বেশি দর্শনার্থী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ২১ সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কসহ আন্তর্জাতিক মহল সোচ্চার হয়েছে। ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথ বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মানবাধিকার জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ব্রিটিশ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর দুই ছেলেকে পাকিস্তানি ভিসা দেওয়া হচ্ছে না এবং পাকিস্তানে গেলে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তিন বছর ধরে বন্দি ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের সঙ্গে সম্প্রতি দেখা করার সুযোগ পান তাঁর দুই বোন উজমা ও নওরীন। বাবার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে সুলেমান বলেন, ‘তাঁরা দুজনই দেখেছেন বাবা কতটা বিচলিত ছিলেন। নির্জন কারাবাসে তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।’
কাসিম জানান, উদ্বেগে বাবার হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং তিনি মারাত্মক প্যালপিটেশনে ভুগছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে আইনজীবীদের বরাতে জানা গিয়েছিল ইমরান খান তাঁর ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সম্প্রতি বোনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও তাঁর চোখে বিশেষ আই প্যাচ লাগানো ছিল।
গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সপ্তাহে স্বজনদের সাক্ষাৎ এবং ছেলেদের সঙ্গে দুবার ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে ২০ আগস্ট ইমরান খানকে সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।