Image description
ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, রোহিঙ্গা, অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বেড়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ।
 
গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণ কমিটি এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানায়। কমিটির দাবি, ২০১৭ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশ এবং ২০২৫ সালের পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর এসব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান আরও বেড়েছে।
 
বিবৃতিতে বলা হয়, একাধিক রাজ্যে পুলিশ বাংলাভাষী ব্যক্তিদের, যাদের অধিকাংশই মুসলিম, আটক করে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে বলেছে। নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে না পারায় অনেককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ।
 
২০১৭ সালের নির্দেশনায় রোহিঙ্গাসহ অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত, বহিষ্কার ও ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আর ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার কয়েক সপ্তাহ পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের নথিপত্র ও পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
 
ওই নির্দেশের পর বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী ব্যক্তিদের আটকের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ভুল করে বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজন পরবর্তী সময়ে ভারতীয় নাগরিক প্রমাণিত হয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন।
 
জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণের জবাব নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
 
বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, জাতিসংঘের কমিটির পর্যালোচনাটি নিয়মিত চুক্তিভিত্তিক প্রক্রিয়ার অংশ। ভারত এতে গঠনমূলকভাবে অংশ নিয়েছে।
 
 
 
তিনি বলেন, পর্যালোচনার সময় ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা, আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদ এবং অনগ্রসর সম্প্রদায়গুলোর সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কথা তুলে ধরেছে।
 
জয়সওয়াল বলেন, ‘কমিটির পর্যবেক্ষণগুলোর জবাব আমরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেব।’ তিনি আরও বলেন, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার নেতৃত্বে ভারতের আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রতিনিধি দল পর্যালোচনা বৈঠকে ঢালাও মন্তব্য, ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং সনদের এখতিয়ারবহির্ভূত যেকোনো প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করেছে।
 
এদিকে তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি ট্রাইব (এসটি) ও অন্যান্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের ওই কমিটি। এসব বিষয়ে নয়াদিল্লিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
 
সময়ের আলো