Image description

কক্সবাজারে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে টয়োটা সুপ্রা, হোন্ডা সিভিক এবং মাজদা এমএক্স-৫ রয়েছে। যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেশে এনে জোড়া লাগিয়ে (অ্যাসেম্বল) পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তরের অভিযোগে গাড়িগুলো জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল রাতে কক্সবাজারের কলাতলী রোডের ওশান প্যারাডাইজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এলাকায় অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের দল। তারা গাড়িগুলোতে প্রচলিত নম্বর প্লেটের পরিবর্তে ‘এসআইএনএইচ৪’, ‘এস৪এফআইএটি’ এবং ‘ইএসএইচ৪এইচ’ লেখা পান। পরে গাড়িগুলোর আমদানি, ঘোষণার ধরন, মালিকানা, শুল্ক-কর পরিশোধ এবং স্থানীয়ভাবে সংযোজনের বৈধতা যাচাই করতে জব্দ করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, সম্পূর্ণ গাড়ি হিসেবে আমদানি না দেখিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এগুলো দেশে আনা হতে পারে। পরে স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন, ভুল ঘোষণা কিংবা প্রযোজ্য শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে অসত্য তথ্য বা যোগসাজশের মাধ্যমে শুল্ক কম পরিশোধের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ দাবিনামা জারির সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভুল ঘোষণার আড়ালে চোরাচালানের উপাদান পাওয়া গেলে জরিমানাসহ পণ্য বাজেয়াপ্তের বিধান রয়েছে।

সিআইআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে গাড়িগুলোর সঙ্গে জড়িত হিসেবে পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন কক্সবাজারের হাসিবুর রহমান সিনহা, গাজীপুরের আজমাইন রাইহান ও শরাফাত রহমান, ঢাকার নকিবুল হাসান ও সিফিয়াত মাহমুদ।

জব্দ করা গাড়িগুলোর বিল অব অ্যান্ট্রি, আমদানি ঘোষণার বিবরণ, এইচএস কোড, ঘোষিত মূল্য, শুল্ক-কর পরিশোধের তথ্য, ভিআইএন বা চেসিস নম্বর ও আমদানিকারকের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গাড়ির বিভিন্ন অংশ কীভাবে দেশে এসেছে এবং পরবর্তীতে কোথায় ও কীভাবে সেগুলো জোড়া লাগানো হয়েছে, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।