Image description
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কিশোরদের আসক্ত করে তোলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৭০ কোটি ডলারের সমঝোতায় রাজি হয়েছে মেটা। বড় অঙ্কের এই আপসে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই থেকে আপাতত রেহাই পেলেও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা শেষ হচ্ছে না। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও ব্যক্তিগত ক্ষতির অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা এখনও চলমান।
 
ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে চলা মামলাটিতে ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, শিশু ও কিশোরদের প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা তাদের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও ছিল। মেটা অবশ্য কোনো অন্যায় স্বীকার করেনি।
 
সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে মেটা প্রায় ১ হাজার ২৭০ কোটি ডলার পরিশোধের নিশ্চয়তা দিয়েছে। আরও প্রায় ৫০০ কোটি ডলার নির্ভর করবে টিকটক, স্ন্যাপ ও ইউটিউবের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্‌ম একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় কি না তার ওপর।
 
বদল আসছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে
 
  • কিশোরদের জন্য দৈনিক ব্যবহারে দুই ঘণ্টার ডিফল্ট সময়সীমা থাকবে।
  • রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অ্যাপ ব্যবহারে বাধা থাকবে।
  • স্কুল চলাকালে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
  • চালু হবে উন্নত বয়স যাচাই ব্যবস্থা।
  • অভিভাবকদের জন্য যুক্ত হবে বাড়তি প্যারেন্টাল কন্ট্রোল।
  • কিশোরদের পোস্ট ও কনটেন্টে লাইক-রিঅ্যাকশনের সংখ্যা ডিফল্টভাবে লুকানো থাকবে।
মামলা শুরুর আগে মেটা জানিয়েছিল, বিচার শেষে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের দাবি ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। সেই তুলনায় বর্তমান সমঝোতা কোম্পানির জন্য বড় আইনি ঝুঁকি এড়ানোর পথ তৈরি করেছে। সমঝোতার খবরের পর মেটার শেয়ারও বেড়েছে।
 
তবে এখানেই আইনি অধ্যায় শেষ হচ্ছে না। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও ব্যক্তিগত বাদীদের মামলাগুলো এখনও বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে টিকটক, ইউটিউব ও স্ন্যাপের বিরুদ্ধেও শিশুদের ক্ষতির অভিযোগে আইনি লড়াই চলছে। ফলে মেটার এই বড় আপোশ আপাতত চাপ কমালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে।