Image description

চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তার পরিবারের চার সদস্যকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধারের পর আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, নিখোঁজ নয়, তারা আত্মগোপনে ছিলেন। এর আগে গত ২২ আগস্ট তারা নিখোঁজ হন।

 

উদ্ধারের বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, সিসিটিভি ক্যামেরায় ট্রাকে মালামাল তোলার ফুটেজের সূত্র ধরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে তার পরিবারসহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকালে পিন্টু দাসের সাথে তার স্ত্রী রিমি দাস ও দুই ছেলেও ছিলেন।

 

 

পুলিশ আরও জানায় বলেন, পিন্টু দাস নিখোঁজের বিষয়ে চাঁদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এছাড়া বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে—পিন্টু দাস কোথায় গেলেন কিংবা তার কী হয়েছে? পরে পুলিশি অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমে তার বাসায় প্রবেশ করা হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ঘরে কোনো মালামাল নেই। পরবর্তীতে একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক ট্রাকে করে তার ঘরের মালামাল তুলছেন। সেই সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই অভিযান জোরদার করা হয়।

 

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, অনুসন্ধানের শুরুতে কুমিল্লায় পিন্টু দাসের শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালানো হয়; তবে তিনি সেখানে যাননি। এরপর পিন্টু দাসের এক ভাই রাঙামাটিতে চাকরি করতেন, সেখানেও অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখানেও তার সন্ধান মেলেনি। পাশাপাশি তার বন্ধুবান্ধবসহ সম্ভাব্য সব স্থানে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 

লুৎফর রহমান আরও বলেন, পরবর্তীতে মালামাল পরিবহন করা ট্রাকের চালককে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিজের গ্রামের বাড়ি থেকে জিডিমূলে পিন্টু দাস ও তার পরিবারকে উদ্ধার করা হয়। তিনি ঠিক কী কারণে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা দেনাপাওনার বিষয় রয়েছে কিনা—সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

এর আগে পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের কোথাও না পেয়ে বিষয়টি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করেছিলেন তার বাড়ির মালিকের ছোট ছেলে রাসেল খান।