Image description

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় ইজি বাইক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আটক হাতি আদালতের সিদ্ধান্তে মালিকের কাছে ফিরছে। গতকাল মঙ্গলবার এক আদেশে আদালত হাতিটিকে তার মালিকের কাছে হস্তান্তর করার জন্য সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে নির্দেশ দেন।

 

এর আগে গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি দিয়ে রাস্তা আটকিয়ে চাঁদা তুলছিলেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের আনিসউদ্দিনের ছেলে মাহুত বকুল মিয়া (২৪)। এ সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজি বাইকের দুর্ঘটনায় এক শিশু মারা যায়। পরে হাতি ও মাহুতকে পুলিশে সোপর্দ করেছিল এলাকাবাসী। পরদিন পুলিশ আটক হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়।

পাশাপাশি হাতিটি সম্পর্কে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় এটি মালিকের কাছে দেওয়া হবে নাকি বন বিভাগে হস্তান্তর করা হবে—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন।

 

অবশেষে এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার এক আদেশে আদালত হাতিটিকে তার মালিকের কাছে হস্তান্তর করার জন্য সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। হাতিটির মালিক দুলাল দেওয়ান নওগাঁ জেলার অধিবাসী। তিনি সার্কাসের ব্যবসা করেন না, তবে সার্কাস দলের কাছে হাতিটি ভাড়া দেন।

 

এদিকে আদালত এ আদেশ দিলেও হাতিটি বর্তমানে সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই আছে। গত সাত দিন হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য ওই হাতির মালিকের পক্ষ থেকে নাজমুল সরদার (১৭) নামের আরেক মাহুতকে সদরপুর থানায় পাঠানো হয়। সে নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো, সকালে হাতিকে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করাসহ ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের সিদ্ধান্ত জানতে পেরেছি।

আদালত হাতিটিকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে হাতিটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।