ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষই গতকাল বুধবার পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দেয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবারের সংঘর্ষের জের না কাটতেই গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে সরকারি তিতুমীর কলেজে জাতীয় ছাত্রশক্তির দুই নেতার ওপর ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হন। একই দিন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ওই দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। প্রায় একই সময়ে ঢাকা কলেজে সংঘর্ষ হয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে। ওই দুটি ক্যাম্পাসেও অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষের পর তিন ক্যাম্পাসেই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও আলিয়া মাদ্রাসার পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ আবু তালেব কালবেলাকে বলেন, দুটি ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি রয়েছে।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. নাজিম উদ্দিন আল আজাদ বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
ঢাকা কলেজের পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মঙ্গলবার ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।
তিতুমীর কলেজে ছাত্রশক্তির দুই নেতার ওপর হামলার অভিযোগ: রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে জাতীয় ছাত্রশক্তির দুই নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বেলা ১১টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এতে ছাত্রশক্তি তিতুমীর কলেজ সংসদের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ও সদস্য সচিব আল নোমান নিরবসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। আহত দুই নেতাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন। ওই সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়।
সদস্য সচিব আল নোমান নিরবের দাবি, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অডিটোরিয়ামে ঢুকে হামলা চালায়। এতে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী ছাড়াও সাংবাদিক ও কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন। হামলার সময় কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
তবে এ বিষয়ে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের কোনো নেতার বক্তব্য নিতে পারেনি কালবেলা।
হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে শিবিরের গণজমায়েত: জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে ছাত্র গণজমায়েত করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গণজমায়েতের পর ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ করে সংগঠনটি। সেখানে বক্তারা ক্যাম্পাসে সহিংসতা বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘটিত হামলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও বহিরাগতরা জড়িত। তিনি দাবি করেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কিছু মহল আবারও ক্যাম্পাসে দখল ও টেন্ডারবাজির রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে মেধাচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় ওই সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এমপি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বক্তব্য দেন।