Image description
অবৈধ আবাসন প্রকল্প

ঢাকার সাভার উপজেলার উত্তর কাউন্দিয়ায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি আবাসন প্রকল্প। উর্বর ফসলি জমি আর তুরাগ নদীর বুক চিরে ওঠা বালুচরে ৯ হাজার ৫০০ বিঘা জমি নিয়ে গড়ে তোলা এ আবাসন সাম্রাজ্যে করা হচ্ছে ১৯ হাজার প্লট। তবে ‘ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি’ নামে এই আবাসন প্রকল্পের নেই রাজউকের কোনো অনুমোদন, নেই পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র।

আইনের তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে কৃষকের জমি ও নিচু জলাশয় ভরাটের মতো অভিযোগও রয়েছে। এমন অনুমোদনহীন বেসরকারি আবাসন প্রকল্পকে বিশেষ সুবিধা দিতে সরকারি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে সেতু। লোকালয় থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আপত্তি উপেক্ষা করে স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) অনুরোধে ‘ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি’ প্রকল্পের মধ্য দিয়েই এ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, লোকালয় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালির মধ্য দিয়ে সেতু করায় বাধা দেয় রাজউক। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাভার সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রাজউক চেয়ারম্যানের সঙ্গে সভা করেন। তাতে রাজউক রাজি না হলে দুজন এমপিকে দিয়ে ফোন করানো হয়। পরে রাজউক কিছু শর্ত জুড়ে দেয়।

গত বছরের ১৪ জানুয়ারি রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ (চলতি দায়িত্ব) নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শাখার মোহাম্মদ নূর-ই-খোদা স্বাক্ষরিত চিঠিতে কিছু শর্তসাপেক্ষে এলজিইডির অধীন পল্লি সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ঢাকা জেলার

সাভার উপজেলাধীন উত্তর কাউন্দিয়া এবং মিরপুর থানার নবাবেরবাগ মৌজায় তুরাগ নদীর ওপর ৪০৭ দশমিক ৫০ মিটার সেতু (আইডি নং-৩২৬৭৩০২১) নির্মাণে অনাপত্তি দেওয়া হয়।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত সেতুর অ্যালাইনমেন্ট ও অ্যাপ্রোচ সড়কের অ্যালাইনমেন্ট বরাবর ১৯টি আরএস দাগ (৪৩২৩, ৪৩২২, ৪৩২১, ৪৩২০, ৪৩১৯, ৪৩১৮, ৪৩১৭, ৪৩১৬, ৪৩১৪, ৪৩১৩, ৪৩১২, ৪১১৮, ৪১১২, ৪১২০, ৪১২৭, ৪১২৮, ৪১৩০, ৪১৩১, ৪১৩২) এবং পার্শ্ববর্তী দাগের জমি ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) অনুযায়ী জলাশয়, কৃষিজমি ও বন্যা প্রবাহ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এই জমিতে তুরাগ নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু শর্ত মেনে নির্মাণ করলে রাজউকের আপত্তি থাকবে না।

রাজউকের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর আগেই প্রস্তাবিত বর্তমান অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার অনাপত্তি নিতে হবে; প্রস্তাবিত সেতুর পশ্চিম পাশে লোকালয়ের (কাউন্দিয়া) সঙ্গে সেতুর সংযোগ স্থাপনে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করতে হবে; সেতুর তুরাগ নদীর পশ্চিম তীরবর্তী সংযোগ সড়ক অংশের দাগসমূহ ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (২০২২-২০৩৫) অনুযায়ী জলাশয়, কৃষি ও বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত থাকায় অ্যাপ্রোচ সড়ক ভায়াডাক্টের মাধ্যমে নির্মাণ করতে হবে; ভায়াডাক্ট রাস্তা ছাড়া বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলে যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ; প্রস্তাবিত সেতুর পূর্বপাশে বেড়িবাঁধ সড়কের (অভ্যন্তরীণ রিং রোড) প্রস্তাবনা থাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন/সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় অথবা অনাপত্তি নিয়ে সেতু বাস্তবায়ন করতে হবে; পানিপ্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য খাল/নদীর ওপর স্থাপিত সেতুগুলোকে অবশ্যই উল্লম্বভাবে স্থাপন করতে হবে এবং নদীর তীর সংকোচন করা যাবে না; বাঁধের প্রস্থ যাই হোক না কেন, সেতুর পরিবর্তে কোনো ধরনের বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা যাবে না।

তবে এসব শর্তের বেশিরভাগই মানা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। আর ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি আবাসন প্রকল্পের জমির দাম কয়েকগুণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই সরকারি টাকায় এ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ সেতু দেখিয়ে এরই মধ্যে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি তাদের জমির দাম প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারি টাকায় নির্মিত সেতু রাতারাতি মুনাফায় ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলছে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালিকে।

ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি ২০২৬-এর সর্বশেষ রিয়েল এস্টেট ট্রেন্ড অনুযায়ী, এই জোনের জমির মূল্য বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোম্পানিটির তথ্য বলছে, বাণিজ্যিক প্লট (কর্নার) প্রথম ফেস প্রতি কাঠা ২৮ লাখ, দ্বিতীয় ফেস ২৬ লাখ টাকা। আবাসিক প্লট (কর্নার) প্রতি কাঠা ২২ লাখ টাকা ও ২০ লাখ আর দক্ষিণে প্লটের দাম ২১ থেকে ১৯ লাখ টাকা। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্লট তৈরি করে ১৮ থেকে শুরু করে ২২ লাখ টাকায় বিক্রি করছে কোম্পানিটি। রাজউকের অনুমোদন এবং রাজউক নির্ধারিত পরিকল্পনা ও আধুনিক উন্নয়ন নীতিমালা অনুসরণ করেই কোম্পানিটি কাজ করছে বলে বিভিন্নভাবে প্রচার করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। যদিও বাস্তবে রাজউক থেকে কোনো অনুমোদন নেয়নি কোম্পানিটি।

নথি বলছে, এই হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে রাজউক অভিযান পরিচালনা করে বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে মামলা করে; কিন্তু এর তোয়াক্কা না করে রীতিমতো ব্যবসা করে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

অবৈধভাবে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালির কার্যক্রম পরিচালনা করায় ২০২২ সালে মামলা করে রাজউক। এরপর কার্যক্রম বন্ধ না হওয়া গত ৩১ মার্চ অবৈধভাবে কার্যক্রম বন্ধে নোটিশ জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, রাজউকের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ‘ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি’ প্রকল্পের নামে অবৈধভাবে ড্যাপ জলাশয় চিহ্নিত এলাকায় অবৈধভাবে বালু ভরাট এবং বিভিন্ন জায়গায় সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড স্থাপন ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্লট/ফ্ল্যাট বিক্রি করছে, যা প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন এবং বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা পরিপন্থি।

প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে অবৈধভাবে বালু ভরাটের কার্যক্রম বন্ধ, সাইনবোর্ড অপসারণ এবং পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, প্লট/ফ্ল্যাট বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে জানানোর জন্য বলা হয়। অন্যথায় অবৈধভাবে বালু ভরাট, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, বিজ্ঞাপন প্রচারের দায়ে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন এবং বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা অনুযায়ী মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে রাজউকের এসব ব্যবস্থা আমলে নেয়নি ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি। তারা তাদের মতো প্লট/ফ্ল্যাট বিক্রি করে যাচ্ছে।

কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কাঠায় ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে বুকিং এবং ৬০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট সম্পন্ন হলে রেজিস্ট্রির প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। অবশিষ্ট অর্থ ২৪ মাসে পরিশোধযোগ্য। এমন লোভনীয় অফার দিয়ে শত শত ক্রেতার কাছে টাকা নিচ্ছে কোম্পানিটি।

তবে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি থেকে জমি কিনে বুঝে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। এমন ১০ জন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় কালবেলার। এর মধ্যে মো. মনজু কালবেলাকে বলেন, ‘আমিসহ আমার বেশ কয়েকজন বন্ধু প্লট কিনেছি, কিন্তু আমাদের জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে না। কোন প্লটে আমাদের তাও দেখিয়ে দিচ্ছে না।’

কোম্পানিটির বিরুদ্ধে শুধু সরকারি জলাশয় ও নদী ভরাট নয়, স্থানীয় কৃষকদের জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে। তথ্য বলছে, কোম্পানিটির একটি নিজস্ব বাহিনী রয়েছে। স্থানীয় সাধারণ কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক কৃষিজমি দখল করে বালু ভরাট করে।

অভিযোগ আছে, স্থানীয় কৃষকের জমি রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করে নিজের বলে চালিয়ে দিচ্ছে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি। মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির কাছে থেকে অল্প কিছু জমি নিয়ে হাউজিং ব্যবসা শুরু। তারপর আশপাশের ব্যক্তিদের জমি লোভনীয় অফার দিয়ে বিক্রি করে দিতে বলে। কিন্তু তারা রাজি না হলে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালির মালিকপক্ষের লোকজন ভয়ভীতি দেখান। কৃষকদের বলা হয়, যারা জমি বিক্রি করবেন এখন টাকা পাবেন, পরে জমি যাবে, টাকাও পাবেন না।

এসব জমির মালিকদের নামমাত্র টাকা দিলেও বাকি টাকা এখনো দেয়নি। এই অভিযোগে তুলে ভুক্তভোগী জমির মালিকরা মামলা করতে গেলে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালির লোকজন তাদের প্রাণনাশকের হুমকি দেন।

একাধিক কৃষক বলেন, ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালির কাছে টাকা চাইতে গেলে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। অফিসে গেলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে ও মামলা করতে ভয় পান তারা। কেউ মুখ খুললেই তাদের সন্ত্রাসী গ্রুপ দিয়ে নানাভাবে হুমকি দেয়।

ওয়েস্টার্ন ভ্যালি প্রকল্প রাজউক কর্তৃক অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছেন রাজউকের উপনগর পরিকল্পনাবিদ-১ (নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শাখা) নবায়ন খীসা। তিনি কালবেলাকে বলেন, রাজউকের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ড্যাপ ‘এ’ চিহ্নিত জলাশয়, কৃষিজমিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে বলে ওই প্রকল্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরেজমিন যাচাই করে যার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাজউকের অনুমোদন ছাড়া ওই কোম্পানি কর্তৃক ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন জায়গায় সাইনবোর্ড/বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে প্লট বিক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ করে রাজউককে জানানোর জন্য তাদের নোটিশ দেওয়া হয়। অনুমোদনহীন হাউজিং প্রকল্পের কার্যক্রম বিষয়ে রাজউক জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। রাজউক কর্তৃক অনুমোদনহীন হাউজিং প্রকল্পের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং মামলা দেওয়া হচ্ছে। তিনি কোনো হাউজিং প্রকল্পে প্লট ক্রয়ের আগে অবশ্যই প্রকল্পটির রাজউকের অনুমোদন আছে কি না তা যাচাই করার অনুরোধ জানান।

তবে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালির অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি করেছেন কোম্পানিটির পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘সরকারি টাকায় ব্রিজ করা হচ্ছে। এই ব্রিজ হাউজিংয়ের মধ্য দিয়ে করতে বলেছেন স্থানীয় এমপিরা। আগামী ৩০ সালের মধ্যে আমাদের হাউজিং বাসযোগ্য হবে। সরকারের সব অনুমোদন নিয়েই হাউজিং কার্যক্রম চলছে।’

ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালির আরেক পরিচালক মো. আল-আমিন হোসেন বলেন, রাজউক থেকে শুরু করে সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিয়ে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে ৯ হাজার বিঘা জমি আমাদের কোম্পানির।

ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালির চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে নিশ্চিত করেন। তবে কৃষকদের কাছ থেকে জমি নিয়ে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না করা, রাজউকের অনুমোদন, কৃষিজমি ভরাটসহ নানা প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘আমি রেস্টুরেন্টে আছি, পরে কথা বলব’। এই বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

এলজিইডির ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, সেতু লোকালয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখান থেকে সরিয়ে এখন হাউজিং কোম্পানির মধ্য দিয়ে করা হচ্ছে। আমি চার-পাঁচ মাস ধরে আসছি, যতটুকু জানি ১২ মিটার সেতু করার জন্য মাটি ফিজিবল (উপযুক্ত) ছিল না বলেই লোকালয়ে করা সম্ভব হয়নি।

লোকালয় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে সরকারি টাকায় বেসরকারি কোম্পানিকে প্রমোট করতে হাউজিং কোম্পানির জমির ওপর দিয়ে সেতু করা হচ্ছে—স্থানীয়রা এমন অভিযোগ করছেন বলে জানালে উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি এসব ভালো করে জানি না। কিন্তু সবকিছু দেখেশুনেই ব্রিজ করা হচ্ছে। ব্রিজের অ্যাপ্রোচ করতে প্রায় এক থেকে দেড়শ মিটার বাড়ানো হয়েছে।’