জুলাই বিপ্লবের সৈনিকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়ে ছাত্রদল মূলত ছাত্রলীগের রূপ ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। তাদের এই ফ্যাসিবাদের মতো আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আজ বুধবার বিকালে নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ছাত্রদলের সাম্প্রতিক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে আবদুল হালিম বলেছেন, ‘আজ ছাত্রদল ছাত্রলীগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা হেলমেট পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষ মন্তব্য করছে ছাত্রদলের চেহারায় যেন ছাত্রলীগকেই দেখা যাচ্ছে।’
বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বললেন, ‘একসময় আপনারা ও আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। দয়া করে নিজেরা জালিম হবেন না। এই হামলাকারীদের অনতিবিলম্বে থামান, অন্যথায় জনগণ এটা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওয়াদা দেওয়া হলেও এখন জনগণের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়কে উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কার কমিটির বদলে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
আমিরে জামায়াতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বললেন, ‘প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু জুলাই বিপ্লবের অর্জন বিসর্জন দেব না। আমরা সংসদে ও সংসদের বাইরে সবসময় জনগণের পাশে থাকব। কারণ ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া সংবিধান সংস্কার ছাড়া জনগণের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াসের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় গণসমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের টিম সদস্য ও সাবেক জেলা আমীর আলহাজ্ব মমিনুল হক সরকার, সাবেক কেন্দ্রীয় শিবির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বার এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীল আবু সাঈদ মুন্নাসহ অন্যান্য নেতারা।