Image description

আগামী ১০ আগস্ট মধ্য বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে আগামী ১৪ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে ভারী থেকে অতিভারীর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

বুধবার বিকালে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, বৃহস্পতিবারও দেশজুড়ে বৃষ্টি থাকবে; এরপর শুক্রবার থেকে কমে ৯ আগস্ট পর্যন্ত কিছুটা বিরতি থাকবে। অর্থাৎ মাঝে তিনদিন বিরতির পর ১০ ও ১১ আগস্ট আবারও বৃষ্টি বাড়বে। এরপর লঘুচাপের প্রভাবে আবার সারাদেশে বৃষ্টি বাড়তে পারে।

 

তিনি বলেন, ১০ আগস্ট মধ্য বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে; পরবর্তীতে সেটি আরো গভীর হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবেই ১৪ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে ভারী থেকে অতিভারীর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এ দিকে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার প্রভাবে বুধবারও দেশজুড়ে বৃষ্টি হয়েছে। এই প্রবণতা আজ বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম বলছে, দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে আংশিক বৃষ্টি বলয় ‘নির্ঝর’, যার প্রভাবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে। 

বাংলাদেশসংবাদ

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরের দিকে রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি হয়েছে, ৫০ মিলিমিটার। সারাদেশেও কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় নেত্রকোনায়। এ ছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৪০, কক্সবাজারে ১৩৬, সিলেটে ১২৭, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ১০১, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯৪, নীলফামারীর ডিমলায় ৯১, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮৭, পাবনার ইশ্বরদীতে ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

এদিন সারাদেশের মধ্যে খুলনার কয়রায় সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। রাজধানীতে তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ৯ ডিগ্রী।

 

সন্ধ্যা ছয়টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে।

 

এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। পরের দিনও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

 

 

 

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী) এবং কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে কেবল বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

তবে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকাভুক্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা, তিস্তা ও দুধকুমার অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলা, সোমেশ্বরী অববাহিকাভুক্ত নেত্রকোনা জেলা বন্যা ঝুঁকি রয়েছে।

 

এছাড়া আগামী ৪৮ থেকে ১২০ ঘণ্টায় ধরলা অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলা,

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকাভুক্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলা এবং ভুগাই-কংস অববাহিকাভুক্ত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ।