চব্বিশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফেনীতে মহিপালে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডে প্রতীকী আদালতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছয় নেতার বিচার হয়েছে। শেখ হাসিনা ছাড়াও স্থানীয় সাবেক তিন সংসদ সদস্য (এমপি) ও দলীয় দুই নেতার প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এর আয়োজন করে জেলা ছাত্রদল। এছাড়া আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতীকী আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আসামিরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-১ আসনের সাবেক এমপি আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-৩ আসনের সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল ও পৌর সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী। তাঁদের মধ্যে শেখ হাসিনাকে জুলাই আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জেলার মহিপাল চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে একই দিনে শহীদ হন সাতজন। পুলিশ ও প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গুলিবিদ্ধসহ হামলা চালায়। এতে সাতজন নিহতসহ চার শতাধিক আহত হন। এতে পঙ্গুত্ব বরণ করেন প্রায় ৫০ জন। এসব ঘটনায় ৭টি হত্যাসহ মোট ২২টি মামলা হয়েছে।
শেখ হাসিনা, নিজাম হাজারীসহ ৬ জনের বিচারে ফেনীতে প্রতীকী আদালত। স্ট্রিম ছবি
মহিপাল চত্বরে হত্যাকাণ্ডের বর্ষপূর্তিতে ফেনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গতকাল প্রতীকী বিচার আয়োজন করে ছাত্রদল। সরেজমিনে দেখা গেছে, বেদিতে সাময়িকভাবে একটি প্রতীকী আদালত স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বিচারক, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, সাক্ষী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও আসামির কাঠগড়ায় প্রতীকী অভিযুক্তদের উপস্থিতি দেখানো হয়। তাদের সামনে মহিপালে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও চিত্র উপস্থাপন করে আইনজীবীরা। পরে প্রতীকী বিচারক অভিযুক্তদের ফাঁসির আদেশ দেন। রায় ঘোষণার পরপরই প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে বিচার দেখতে চান। জেলা ছাত্রদলের প্রতীকী বিচারের মতো বাস্তবেও যেন দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়। প্রয়োজনে আইনি সহায়তার মাধ্যমে মহিপালের হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করতে জেলা বিএনপি উদ্যোগ নেবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, মহিপালে নিজাম উদ্দিন হাজারী ও তার অনুসারীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। অথচ ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। একই সঙ্গে তিনি ফেনীর মামলাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে বিলম্ব হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী, গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদস্যসচিব মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়াসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অতিথিরা।