Image description

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তার ভাষ্য, মন্ত্রণালয় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব যে বাংলাদেশ আর কখনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।

আজ বুধবার ফরেন সার্ভিস একাডেমির আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট-পরবর্তী সময় মোটেও সহজ ছিল না। সে সময় প্রধান উপদেষ্টা তাকে প্রথমে সরকারের দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানান এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেন।

তিনি তুলে ধরেন, তখন সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পুরো রূপান্তর প্রক্রিয়া একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা।

 

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, নানা বাধা ও সংকটের মধ্যেও তিনটি লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তার ভাষ্য, নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও এটিকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। আশঙ্কা করা কোনো পরিস্থিতিরই সৃষ্টি হয়নি। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে আহত ও আন্দোলনের জীবন্ত সাক্ষীদের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, শহীদদের আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগে অনুপ্রাণিত করবে।

লিখিত বক্তব্যের বাইরে এসে তিনি সেই সময়ের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করেন। তার ভাষ্য, বিদেশে অবস্থান করেও তিনি দেখেছেন কীভাবে দেশের তরুণ-তরুণীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকা সম্ভব ছিল না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একপর্যায়ে দেশে সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার মতে, এমন পরিস্থিতি তিনি আগে কখনো দেখেননি। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তথ্যপ্রবাহ এভাবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম অন্ধকার ও নৃশংস সময় এবং স্বাধীনতার পর এমন পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতও বক্তব্য দেন।