Image description

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচির রেশ না কাটতেই ক্যাম্পাসে দেখা মিলেছে ভিন্ন এক চিত্র। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচিতে একই মঞ্চে মিলিত হন উপাচার্য, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।

এ সময় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই ছাতা মাথায় আনন্দ শোভাযাত্রা ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ও আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ করেন তারা। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। এই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার পৃথক কর্মসূচি পালন করে তারা। ছাত্রদল ও শিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে শক্ত অবস্থানে নেয় পুলিশ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এ অবস্থান বলে জানিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শক্ত অবস্থান নেয়। এ সময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রসহ লাঠিসোঁটা দেখা যায়। ইসলামী ছাত্রশিবির বিকাল ৫টায় লালবাগ চত্বরে জড়ো হয় এবং নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে শাপলা চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা। এর আগে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিবিরের ওই আয়োজনে সেখানে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেই ছবি প্রদর্শন নিয়ে আপত্তি তোলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি ছিল, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে এমন কয়েকজনের ছবি সরিয়ে নিতে হবে। তবে ছাত্রশিবির জানিয়ে দেয়, তারা কোনোভাবেই ওই ছবি অপসারণ করবে না। বিষয়টি নিয়ে সোমবার রাত ও মঙ্গলবার দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। সংঘর্ষের পর একই স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এতে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে বেরোবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করা হয়েছিল।

এমন পরিস্থিতির একদিন পরই জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের একই মঞ্চে দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

তাদের মতে, ক্যাম্পাসে মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়। বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেছেন, ছাত্রদল কোনো আয়োজনে আমরা বাধা দিয়েছি এমন কোনো ঘটনা নেই। আমরা চাই ক্যাম্পাস সহাবস্থানে থাকুক, স্থিতিশীল পরিবেশে থাকুক।

ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বললেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণিপেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় আমরা ত্রাসের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেয়ে সুন্দর একটা বাংলাদেশ পেয়েছি। জুলাই যেমন আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেই ধারায় নতুন বাংলাদেশে গড়তে হবে। মতবিরোধ-দ্বন্দ্ব থাকলে আবারও ফ্যাসিবাদীরা ফিরে আসবে।’

এ সময় বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী বলেছেন, ‘আজকে আমাদের একটা আনন্দের দিন। সকল ছাত্র-জনতা যেভাবে ২৪-এর জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থান করেছিল তারই ফলশ্রুতিতে আজকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। সেজন্য তরুণরা একত্র হয়ে কাজ করেছে। এখনও তাদের মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে সেটা আজকেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়ে দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থান দিবসের সবগুলো কর্মসূচিতে আমরা ছাত্রদল ছাত্রশিবিরসহ সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নিয়েছি।’