পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের (ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় দুপক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। পদ না পেয়ে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অভিযুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের দেওয়া একটি পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম শরীফের দাবি, মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচনে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তার অভিযোগ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের মধ্যস্থতায় তসলিম আরিফ তুষারকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) নিজের ফেসবুক আইডিতে শরীফুল ইসলাম শরীফ লেখেন, ‘ঈশ্বরদী-আটঘোরিয়ার ধানের শীষের প্রিয় অভিভাবকের কাছে প্রশ্ন—ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাবলু মহলদারের ছেলে এবং শেখ হাসিনার ডানহাতখ্যাত অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি নওশের সাহেবের ভাতিজা তুষার মহলদারের কাছে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ কত টাকায় বেচলেন?’ পোস্টটি প্রকাশের পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এদিকে রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওই পোস্টের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শরীফুল ইসলাম আগে বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ছিলেন। তবে এবার অভিভাবক প্রতিনিধিরা তাকে পরিচালনা পর্ষদে রাখেননি। সভাপতি পদ হারানোর ক্ষোভ থেকেই তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর অভিযোগ তুলে ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। অনৈতিক লেনদেনের কোনো তথ্য-প্রমাণ তিনি দিতে পারবেন না বলেও দাবি করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিভ্রান্তিকর অভিযোগ তোলার অপরাধে শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, সাবেক সদস্যসচিব আজমল হোসেন সুজন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম তুহিন, সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান মুকুল, নবনির্বাচিত সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার, কৃষক দলের সদস্যসচিব মইনুল হক সরদার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়নসহ অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।