Image description
পরিবারের অমতে বিয়ে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরিবারের অমতে বিয়ে করায় জামাতাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দিয়ে মারধর করেছেন তারই শ্বশুর। পরে বড় ভাইসহ সেই ছেলেকে পুলিশ দিয়ে করিয়েছেন গ্রেপ্তার। নিজের বাবার বিরুদ্ধে এমনই এক অভিযোগ তুলেছেন মেয়ে মুশফিকা হাসান নৈতী।

অভিযুক্ত সেই বাবার নাম কামরুল হাসান ওরফে মনা। কুতুবপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তিনি। এদিকে গ্রেপ্তার দুই যুবক হলেন শাহরিয়ার সোহান শিমুল (২১) ও তার বড় ভাই মো. শফিকুল ইসলাম শুভ (২৮)। দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়দের দাবি, শুভর বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলেও শিমুল শুধু পারিবারিক বিরোধের জেরেই শ্বশুরের আক্রোশের শিকার।

এদিকে শিমুলের স্ত্রী নৈতী গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় চার মাস আগে পরিবারের অমত সত্ত্বেও পাশের এলাকার শাহরিয়ার সোহান শিমুলকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন তিনি। এরপর থেকেই তার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি।

তার ভাষ্য, গত শনিবার রাস্তায় একা পেয়ে শিমুলকে প্রথমে চোর আখ্যা দিয়ে মারধর শুরু করেন তার বাবা। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করান। তিনি দাবি করেন, এর আগেও তার বাবা তাদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়েছেন এবং সেই কথোপকথনের কল রেকর্ডও রয়েছে তার কাছে।

নৈতী আরও বলেন, ‘আমি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছি। আমাকে কেউ জোর করেনি। কিন্তু আমার পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। তারা আমাকে বাড়িতে নিয়ে নির্যাতনও করেছে। এখন আমার স্বামী ও তার ভাইকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কামরুল হাসান মনার দাবি, ‘শিমুল আর তার ভাই ছাত্রলীগ করে। মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। এলাকার লোকজন ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই। আর শিমুল আমার মেয়ের স্বামী নয়, আমার মেয়ের এখনো বিয়ে হয়নি।’

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, ‘কে কী অভিযোগ করল, তা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমাদের কাছে মনে হয়েছে তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

এর আগে গত ২৭ মে মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে শাহরিয়ার সোহান শিমুল, মো. শফিকুল ইসলাম শুভসহ চারজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন কামরুল হাসান মনা।