দেশে চলমান গ্যাস সংকট এখনো কাটেনি। এর প্রভাবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও গণপরিবহনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক যানবাহন সড়কে নামতে পারছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর।
সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অনেক চালককে গভীর রাত থেকে পরদিন সকাল কিংবা দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আকবর হোসেন বলেন, “সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে সকালে মাত্র ২০০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। গ্যাসই যদি না পাই, তাহলে গাড়ি চালাবো কীভাবে? মহাজনের জমার টাকাই বা দেব কোথা থেকে?”
সড়কে গণপরিবহনের সংকট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
গ্যাসের অভাবে সিএনজিচালিত বাস ও অটোরিকশার বড় একটি অংশ সড়কে নামতে পারছে না। ফলে সকাল থেকেই রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বনশ্রী থেকে গুলশানে অফিসগামী এক যাত্রী বলেন, “অন্যদিন বনশ্রীর ই-ব্লক এভিনিউ রোডে দাঁড়ালেই সিএনজি পাওয়া যায়। কিন্তু আজ এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও কোনও খালি গাড়ি পাইনি।”
সংকটের সুযোগে বাড়তি ভাড়া
যানবাহনের সংকটকে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, অধিকাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে চলাচল করছে না। চুক্তিভিত্তিক ভাড়াও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ, এমনকি কোথাও কোথাও তিনগুণ পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বিকল্প না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যাতায়াত করছেন।
ক্ষতির মুখে পরিবহন খাত
পরিবহন মালিকদের দাবি, নিয়মিত গ্যাস না পাওয়ায় তাদের অর্ধেকের বেশি যানবাহন অলস পড়ে আছে। এতে চালক ও মালিক—উভয়েই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একইসঙ্গে গণপরিবহন ব্যবস্থাও চাপে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে রাজধানীর পাশাপাশি দূরপাল্লা ও আন্তজেলা পরিবহন সেবাও আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করে জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।