Image description

কক্সবাজারের টেকনাফে কক্সবাজারগামী যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে বিকাশের দুই কর্মীর কাছ থেকে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা লুট করেছে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তিন কর্মী আহত হয়েছেন। রবিবার (২ আগস্ট) বেলা পৌনে ২টার দিকে উপজেলার দমদমিয়া ১৪ নম্বর সেতু-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের একজন মো. আরমান। তিনি টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং হ্নীলা ও লেদা এলাকার বিকাশের এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর দুজন হলেন বিকাশের টেকনাফ এজেন্সির সেলসম্যান সাকিব ও একরাম।

যেভাবে থামানো হলো চলন্ত বাস

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাশের টেকনাফ এজেন্সির কর্মী আরমান, সাকিব ও একরাম টেকনাফের সীমান্ত ব্যাংক থেকে ৫৭ লাখ টাকা তোলেন। তারা হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন এজেন্টের কাছে এই টাকা পৌঁছে দিতে ‘পালকী পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে ওঠেন।

দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতু এলাকায় পৌঁছালে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা বাসের গতিরোধ করার জন্য সড়কের ওপর পেরেক লাগানো গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দেয়। এতে চালক বাসটি থামিয়ে দেন। বাসটি থামলে ভেতরে ঢুকে পড়ে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা। তারা সরাসরি বিকাশের কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, মারধর করে এবং গুলি ছোড়ে। হামলায় এরিয়া ম্যানেজার আরমান গুলিবিদ্ধ হন এবং অন্য দুজন আহত হন। পরে বিকাশ কর্মীদের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে ফাঁকা গুলি করতে করতে বাসের ঠিক পশ্চিমে অবস্থিত পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। 

 

দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতু এলাকায় পৌঁছালে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা বাসের গতিরোধ করার জন্য সড়কের ওপর পেরেক লাগানো গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দেয়দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতু এলাকায় পৌঁছালে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা বাসের গতিরোধ করার জন্য সড়কের ওপর পেরেক লাগানো গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দেয়

এরপর আহত তিন কর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় অপরাধীদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা দুষ্কৃতকারীরাও জড়িত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তারা বলছেন, নতুন কায়দায় বাসটি থামানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করে। সেইসঙ্গে বাসটি থানায় নেওয়া হয়। পাশাপাশি গাছের গুঁড়িগুলো উদ্ধার করা হয়।

বাসচালকের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে সন্দেহ

আহত আরমান বলেন, ‌‘অস্ত্রধারী দলের সঙ্গে বাসচালক বা সংশ্লিষ্ট কারও যোগসাজশ ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা উচিত। কারণ আমরা নগদ টাকা বহন করছি—এ তথ্য দুর্বৃত্তরা কীভাবে জানলো, তা বোধগম্য নয়। এ ছাড়া গুলি শুরু হওয়ার পরও বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ না করে কেন থেমে ছিল, সেটিও রহস্যজনক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।’

 

টেকনাফ উপজেলার বিকাশ এজেন্টদের ডিস্ট্রিবিউটর আবদুল করিম দাবি করেন, ‘দুই কর্মীর কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকার বেশি লুট করা হয়েছে। দ্রুত অভিযান চালালে টাকা উদ্ধার সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাসচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় তারও যোগসাজশ আছে। কারণ তিনি সেখানে গাড়ি থামিয়ে দেন।’

আহত তিন কর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেআহত তিন কর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে

যা বলছে পুলিশ

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই পুলিশ, বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। চালক ও হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতার এবং লুট হওয়া টাকা উদ্ধারে পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারগামী একটি বাস থামিয়ে বিকাশ কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে লুট হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিকাশ কর্মীদের কাছ থেকে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা লুট হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।’