কথায় কথায় গুলি করার হুমকি দিতেন শিল্পপতি, ব্যবসায়ীদের। তটস্থ রাখতেন পুলিশকেও। মাত্র ২২ দিন আগে ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএন মালিককে চাঁদার জন্য হুমকি দিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন। সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের পায়ে এখন ডান্ডাবেড়ি। হাতে হ্যান্ডকাপ।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশ আজ রবিবার সকালে তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করে। মাথায় হেলমেট, পায়ে ডান্ডাবেড়ি আর হ্যান্ডকাপ পরা ডেভিড ইমনকে একেবারে নির্বিকার দেখা গেছে। চেহারায় তেজ নেই। বরং অসহায়ত্বের ছাপ।
প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময় মাথা নিচু করে ছিলেন ডেভিড ইমন। আলোকচিত্রীদের হাঁকডাকের মধ্যে একবার মাথা উঁচু করে চেহারাও দেখালেন। তাতেই ক্লিক। এরপর পায়ে ডান্ডাবেড়ি নিয়েই সিড়ি ভেঙে উঠলেন নির্ধারিত আদালতে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মুহাম্মদ নাজমুন নূর বললেন, ‘ডেভিড ইমন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে যাতে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ সতর্ক ছিল। আদালতপাড়ায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।’
হত্যা ও অস্ত্র আইনের দুই মামলায় ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সাতদিন করে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মুতাসিম বিল্লাহ’র আদালতে শুনানি হয়। আদালত দুই মামলায় তাকে পাঁচদিন করে ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুমতি দেন।
গত ২৯ জুলাই ভারতে পালানোর সময় যশোরে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তিন সহযোগীসহ ধরা পড়েন মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। ৩০ জুলাই তাকে চট্টগ্রামে এনে তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বিদেশে পলাতক শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী ইমনকে অনেকে শয়তান ইমন নামেও ডাকেন। তার দেওয়া তথ্যে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানালেন, ফটিকছড়ি থানার জামাল হত্যা এবং ডেভিড ইমনের তথ্যে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
অস্ত্র মামলায় ইমনের সঙ্গে তার আরও চার সহযোগীকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরা হলেন- মোহাম্মদ মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ, মোহাম্মদ শামীম, মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেন ও আল ইসলাম আলিফ।
২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে জামায়াতকর্মী মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন নিহত হন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
তারেক আজিজের ভাষ্য, ‘হাটহাজারী থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায়ও ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ লোকমান হাকিম আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ‘