কক্সবাজার রেলপথে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।
এ মাসের মধ্যেই চট্টগ্রাম থেকে চলাচলকারী ‘মহানগর’ ট্রেনকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও এক জোড়া ট্রেন চালুর আশা প্রকাশ করেছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
শনিবার কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন ও রেলপথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্টেশনটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার পদক্ষেপের কথাও বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কক্সবাজার রুটে তিন জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। খুব শিগগিরই তা চার জোড়ায় উন্নীত হবে এবং ভবিষ্যতে পাঁচ জোড়া ট্রেন চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
“এই মাসের মধ্যেই চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলাচলকারী ‘মহানগর’ ট্রেনকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। এটিকে এসি ট্রেনে রূপান্তরেরও পরিকল্পনা রয়েছে।”
দেশে রেলসেবার চাহিদা দ্রুত বাড়লেও পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ না থাকায় নতুন ট্রেন চালুতে সীমাবদ্ধতার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ লোকোমোটিভের স্বল্পতা। তারপরও বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যাত্রীসেবা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগও চলছে।”
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য রেলভ্রমণকে আরও জনপ্রিয় ও সহজলভ্য করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রেলসেবা সম্প্রসারণে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছে আইকনিক স্টেশন
কক্সবাজারের আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন পরিচালনায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্টেশনটির ব্যবস্থাপনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে।
“টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় স্টেশন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আমরা আশা করছি।”
বনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের সময় প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটা হয়েছিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে যেসব গাছ লাগানো হয়েছিল, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোথাও ঘাটতি থাকলে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে তা পূরণ করা হবে।
রেলওয়ে, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বনবিভাগ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে নতুন করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তার ভাষায়, রেললাইন নির্মাণে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত
রেলের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান দরপত্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণের সুযোগ নেই। এরপরও কোথাও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
