শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন।
শনিবার দুপুরে ভেদরগঞ্জে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন করে অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন তিনি।
অভিযানকালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় মর্ডান ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং নিউ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক নামের দুটি ক্লিনিক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া সরকারি অফিস সময়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে দুই চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সেবামূলক বিভাগ ঘুরে দেখেন। তিনি হাসপাতালে ভর্তি ও বহির্বিভাগের রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মানও সরেজমিনে যাচাই করেন। পরে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা পরকালের কথা চিন্তা করে দায়িত্ব পালন করবেন। মনে রাখবেন, আপনার-আমার সকল কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সরকারি হাসপাতালগুলোকে ৩১ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন। তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। আর তারই সুযোগ্য সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করবেন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় ক্যান্সার ইউনিট, ফিজিওথেরাপি ইউনিট এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে শিশু হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
অভিযান চলাকালে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, জনগণ যাতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।