গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি মাদ্রাসায় ক্যালকুলেটর চুরির অপবাদে আহম্মদ শেখ (৭) নামের এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার (১ আগস্ট) সকালে থানায় মামলা করেন শিক্ষার্থীর দাদি। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে উপজেলার কদমপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকের মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিতে হয়। বিষয়টি জানাজানির পর লোকজনের উত্তেজনার মুখে গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে করে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আজ শিক্ষার্থীর পরিবার মামলা করলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানান মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন।
অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুল মোল্লা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের কদমপুর গ্রামের মোক্তার মোল্লার ছেলে। আহত শিক্ষার্থী আহম্মদ শেখ উপজেলার ঢালিকান্দী গ্রামের শাওন শেখের ছেলে ও কদমপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার কায়দা বিভাগের ছাত্র।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার একটি ক্যালকুলেটর হারিয়ে গেলে শিক্ষার্থী আহম্মদ শেখের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। পরে শিক্ষক এনামুল মোল্লা তাকে বেধড়ক মারধর করেন। খবর পেয়ে শিশুটির পরিবার তাকে উদ্ধার করে মুকসুদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসা পরিচালকের ভাই আমিনুল হক দাবি করেন, ‘আহম্মদকে মারধর করা হয়নি, সে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে।’
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আহম্মদ শেখকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের একাধিক স্থানে নীলাফোলা হখম ছিল। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আজ শনিবার সকালে সে বাড়ি চলে যায়।
আহম্মদের বাবা শাওন শেখ জানান, তার ছেলে প্রায় এক বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। তার বিরুদ্ধে আগে কখনো অভিযোগ ওঠেনি। তিনি বলেন, ‘একটি ক্যালকুলেটর হারানোর মিথ্যা অজুহাতে আমার অবুঝ বাচ্চাটাকে এভাবে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে আহত করা হলো। আমি এই পাষণ্ড শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শিশুটির দুই পায়ে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি খুবই অমানবিক ঘটনা, একজন বাচ্চাকে কেউ এভাবে মারতে পারে না। গ্রেপ্তার শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।