জাতীয়তাবাদী যুবদলের দেশব্যাপী ৮২টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে ৭৫টিই এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। অন্যদিকে জেলা ও মহানগরের অধীন উপজেলা, পৌর ও থানা ইউনিটের প্রায় ৯০০ কমিটির মধ্যে মেয়াদ আছে মাত্র ২৫টির।
এছাড়া এসব ইউনিট কমিটির শীর্ষ নেতারা বিএনপির স্থানীয় কমিটিতে পদায়িত হওয়ায় তৃণমূল যুবদলে দেখা দিয়েছে নেতৃত্ব শূন্যতা। এর ফলে তৃণমূলে সংগঠনিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এই স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করার পদক্ষেপ নিয়েছে দলটি।
যুবদল সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির হাইকমান্ডের অনুমোদন পেলেই তৃণমূল পুনর্গঠনের এই কার্যক্রম শুরু করবে যুবদল। এ লক্ষ্যে আগামী শনিবার বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই ৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। এর প্রায় দুই বছরের মাথায় গত ৪ জুন যুবদলের ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেয় দলটি।
সমসাময়িক রাজনীতি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে আজ বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। সেখানে যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না জানিয়েছেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কবে থেকে এই পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।
যুবদলের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে দলটির জেলা ও মহানগর কমিটির বেশিরভাগই ২০১৮ সালের দিকে গঠন করা হয়েছিল। দুই বছর মেয়াদী কিছু জেলা কমিটি ২০২২-২৩ সালের দিকেও ঘোষণা করা হয়। ৮২টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে বর্তমানে মাত্র সাতটির মেয়াদ রয়েছে। সেগুলো হলো—খুলনা জেলা ও মহানগর এবং ফেনি, যশোর, বান্দরবান, লালমনিরহাট ও জয়পুরহাট।
অন্যদিকে দেড় থেকে দুই বছর ধরে নয়টি জেলায় কমিটি নেই যুবদলের। সেগুলো হলো— সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা, কুমিল্লা উত্তর জেলা, চট্টগ্রাম মহানগর, পটুয়াখালী, শেরপুর ও শরীয়তপুর। বিভিন্ন কারণে এসব জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাঙ্গামাটি জেলায় স্থগিত রয়েছে কমিটির কার্যক্রম।
যুবদলের জেলা ও মহানগর কমিটির মতো তাদের অধীন উপজেলা, পৌর ও থানা কমিটিগুলোর মেয়াদও দুই বছর। সারা দেশের এমন প্রায় নয়শ ইউনিটের মধ্যে ৭০ শতাংশ জায়গায় কমিটি থাকলেও সেগুলোর সিংহভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। মাত্র ২০-২৫টি কমিটির মেয়াদ রয়েছে, যেগুলো গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত হয়েছিল।
তৃণমূল যুবদলের একাধিক নেতা বললেন, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখার কমিটিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও নতুন কমিটি হচ্ছে না। এতে করে যেমন নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথরুদ্ধ হয়ে পড়ছে, তেমনি কর্মীদের মধ্যেও হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া অনেক জায়গায় উপজেলা, থানা ও পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা স্থানীয় বিএনপিতে পদায়িত হয়েছেন। ফলে সেসব ইউনিটে নেতৃত্বের শূন্যতাও দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় তৃণমূলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নতুন নেতৃত্বের বিকল্প নেই।