Image description

শেয়ারবাজার কারসাজিতে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের তারকাচিহ্নিত ২১ নম্বর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ধারাবাহিকভাবে শেয়ারবাজারের পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বর্তমান সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক অনুসন্ধান করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মালামালসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তাও উদ্ঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকার ইতিমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ ও বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত এবং টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ধীরে ধীরে পুঁজিবাজারের অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিযোগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার ৪ জুন পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন নিয়োগ দিয়েছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করেছে। এ ছাড়া বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তকরণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।’

এ বি এম মোশাররফ হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের অনেকগুলো কোম্পানিকে আনা হয় নাই। এগুলো আমরা অ্যাসেস করে দেখব। যদি মনে হয় যাদের আমরা দায়িত্ব দেব, তাদের যদি সুপারিশ থাকে যে এগুলোকে পুঁজিবাজারে এনলিস্ট করলে আমরা ভালো ফলাফল পাব, অবশ্যই আমরা সেই পদক্ষেপ নেব। এই সরকারের অন্যতম একটি মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজের বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানে যেখানে বৈষম্য আছে, যার জন্য মানুষ বিভিন্নভাবে ডিপ্রাইভ হচ্ছে, সেই বৈষম্যকে দূর করা। শুধু ঢাকা নয়, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা ইনশাআল্লাহ শক্তিশালী স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করতে পারব।’