Image description

কয়েকটি মূলধারার সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান এবং এর নেতৃত্বের নামে অপসাংবাদিকতা ও প্রোপাগান্ডা চালানোর অভিযোগ এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিবৃতিতে এই অভিযোগ করে দলটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কিছু সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক ‘খুনিদের পক্ষে’ অবস্থান নিয়েছিল। অভ্যুত্থানের পরেও সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকেরা নিজেদের ভুল স্বীকার কিংবা সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। বরং এখনো কেউ কেউ ‘ফ্যাসিবাদী বয়ান’ প্রচার করে যাচ্ছেন।

এনসিপির দাবি, পাঠক-দর্শকদের আস্থা ধরে রাখতে সংবাদমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের টকশোতে সঞ্চালক বা আলোচক হিসেবে আমন্ত্রণ না জানানোর আহ্বানও জানায় দলটি।

এনসিপি আরও অভিযোগ করে, দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রমাণ ছাড়াই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে সংবাদ প্রকাশ করছে। এতে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতিমালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিবৃতিতে বিশেষভাবে একটি গ্রুপের অধীন কয়েকটি সংবাদপত্রের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, এসব গণমাধ্যম জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী প্রচারণায় সরাসরি যুক্ত। একই সঙ্গে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যাচার করছে।

অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনের বরাতে বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৮০ ঘণ্টায় ওই গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রমাণ ছাড়াই হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে ৯৯টি নেতিবাচক কনটেন্ট করেছে।

এ ধরনের প্রচারণার কারণে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে বলেও দাবি করেছে দলটি। পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও টেলিভিশনের টকশোতেও আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান তৈরির সুযোগ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।

এ পরিস্থিতিতে সরকারকে দ্রুত স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।