Image description
প্রভাব পড়ছে রেমিট্যান্সে

বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের বড় এবং সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। কূটনৈতিক তৎপরতা এবং নানামুখী প্রতিশ্রুতির পরও কাটছে না অচলাবস্থা। মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও যথাযথ সাড়া মিলছে না। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। সংকট নিরসনে রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট দূর করার পাশাপাশি জিটুজি উদ্যোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশি কর্মীদের শীর্ষস্থানীয় গন্তব্য দেশগুলোতে নিয়োগ প্রায় বন্ধ বা সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। সিন্ডিকেট ও নানা অনিয়মের অভিযোগে দুই বছর ধরে বন্ধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। বারবার বৈঠকের পরও বাজারটি চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ আইনি কড়াকড়িতে সাধারণ কর্মীদের জন্য এ বাজারটি এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। ওমানে আকামা ও ভিসা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা এলেও ৩২ মাস ধরে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে পুরোনো সিন্ডিকেট ও অনিয়ম ভাঙতে দুই দেশই নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে একমত হয়েছে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে এ চুক্তির খসড়া তৈরি হবে। বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মী নিয়োগে কোটা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া। আগামী বছরের জুন থেকে দেশটি দক্ষ কর্মী নেওয়া শুরু করতে পারে। মালয়েশিয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে নজর দিচ্ছে সরকার। শ্রমবাজার চালু করতে চলতি মাসে ওমান সফর করবেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তাঁরা দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পেছনে সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দক্ষ কর্মীর অভাব ও কূটনৈতিক তৎপরতার ঘাটতিকে দায়ী করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বলছেন, অসাধু চক্রের কারণে অভিবাসন ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। ফলে বিদেশি নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার বাংলাদেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করে। বৈশ্বিক বাজারে সাধারণ শ্রমিকের চেয়ে দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বেশি। বাংলাদেশ থেকে বেশির ভাগ অদক্ষ কর্মী যাওয়ায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও শ্রম কূটনীতিতে সময়োপযোগী ও জোরালো পদক্ষেপের অভাবেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। অভিবাসনসংশ্লিষ্টদের দাবি, জিটুজি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমবাজার বন্ধ থাকা দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

কর্মীদের ভাষা, আইটি এবং কারিগরি বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, শ্রমবাজার চালু করা বর্তমান সময়ে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রতি বছর ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। বর্তমানে একটি বড় বাজার (সৌদি আরব) খোলা আছে। নতুন শ্রমবাজার চালু করতে জিটুজি উদ্যোগ বাড়াতে হবে। শ্রম চুক্তি যত বেশি বাড়বে আমাদের জন্য সেক্টরগুলো খুলতে থাকবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন। চলতি মাসেই মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর নেতৃত্বে টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং হবে। এর পর হয়তো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।