রাজধানী থেকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সিসা চালানসহ একটি আন্তজেলা অনলাইন মাদক সরবরাহকারী চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তারা হলেন ইরানি বংশো™ূ¢ত বাংলাদেশি নাগরিক দুই যমজ ভাই আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি এবং তাদের অন্যতম সহযোগী মো. মাকসুদ আলম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই সহোদর ইরান থেকে সিসা কারবারের কার্যক্রম, বাজারব্যবস্থা এবং সরবরাহপদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করে বাংলাদেশে অনলাইন মাধ্যমে বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। কোনো ক্রেতা অর্ডার করলে কৌশলে কুরিয়ারে পাঠানো হতো সিসা। তাদের কাছ থেকে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা, ৪০ কেজি সিসা সেবনের কয়লা, ৫টি মোবাইল ফোন ও বিপুল পরিমাণ সিসা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন।
তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনার মাধ্যমে ঢাকাসহ সারা দেশে অনলাইনে অবৈধ সিসা ও সিসা সেবনের উপকরণ বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছে। ওই পেজের মাধ্যমে অর্ডার করা দুই কেজি সিসার চালান জব্দের সূত্র ধরে কালাচাঁদপুরে একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ওই বাসা থেকে ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা এবং ২০টি হুক্কা জব্দ করা হয়। দুই সহোদরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় মাকসুদ আলম নামে এক ব্যক্তি তাদের বিক্রি করা সিসার বেশির ভাগ সরবারহ করে। পরে ভাটারার নূরেরচালা এলাকার একটি বাসা থেকে ১৮ কেজি সিসা, ২১টি হুক্কাসহ মাকসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক জানান, গ্রেপ্তার দুই সহোদর বাংলাদেশি নাগরিক হলেও তাদের পূর্বপুরুষ ইরানি। তারা দুইজনও দীর্ঘ সময় ইরানে ছিলেন। সেখানে থাকার সময় তারা সিসা কারবারে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ফিরে তারা একই ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইনে সিসা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেন। কোনো গ্রাহক যোগাযোগ করলে, পণ্যের ছবি দেখিয়ে অর্ডার নেওয়া হতো। চক্রটি অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করত। যাতে প্রকৃত লেনদেনের উৎস ও সুবিধাভোগীদের পরিচয় গোপন রাখা যায়। ডিএনসি কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানে জব্দ করা মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বিস্তৃত গ্রাহক ডেটাবেস পাওয়া গেছে। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য ক্রেতার তথ্য, যোগাযোগের ইতিহাস, অর্ডারের বিবরণ এবং লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিত ক্রেতা, পরিবেশক, সহযোগী এবং এই নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।