সাভার ও আশুলিয়ায় পৃথক অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা এরশাদুর রহমানসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় সাভারে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি এরশাদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোরে সাভার মডেল মসজিদের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এরশাদুর রহমান সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা পাঁচটি হত্যা মামলা রয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুর মোহাম্মদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাভার মডেল মসজিদের সামনে থেকে এরশাদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
সাভারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, এরশাদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলা রয়েছে। তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আশুলিয়া থেকে পৃথক অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার ভোরে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ধামসোনা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম মেম্বার (৫৫) এবং ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মোল্লা (৩৫)।
ডিবি পুলিশ জানায়, আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে চারটি এবং সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। তাদের আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে আশুলিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ চার মাদককারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে তিন হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, ১০০ গ্রাম হেরোইন, মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি সিসি ক্যামেরা, দুটি মোবাইল ফোনসেট এবং মাদক বিক্রির ২৫ হাজার ৯১০ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘খ’ সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের ডেন্ডাবর উত্তরপাড়া মণ্ডল কলোনি এবং পাথালিয়া ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাভার পৌর এলাকার বেদেপাড়ার বাসিন্দা কথিত মাদককারবারি তোয়া, তার খালাতো ভাই এবং এক নারীসহ মোট চারজন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।