আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ কিছু নতুন কর্মসূচি যোগ হওয়ায় বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৯ শতাংশের বেশি। এ খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের বাজেটে ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে যা ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগামী বাজেটে এ বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। চলতি বাজেটেও একই রকম ছিল।
এবার সামাজিক সুরক্ষা খাতে নতুন করে তিনটি কর্মসূচি যোগ হয়েছে। এগুলো হলো—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী। এ তিন কর্মসূচির জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য রাখা হয়েছে ১২ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। এ অর্থ থেকে প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডের অধীনে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রতি মাসে বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা ও ইমাম-পুরোহিতদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা।
জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ ছাড়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে মূল্যস্ফীতি কমানো ও জিডিপির প্রবৃদ্ধিকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নেওয়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো সাধারণ মানুষের কাছে মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে সহায়তা করবে।
বিএনপি সরকার তাদের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। এ ছাড়া, দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীকে নগদ অর্থ দেওয়ার বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায়, উপকারভোগীদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও বাড়াচ্ছে সরকার।
বরাবরের মতো আগামী বাজেটেও সামাজিক সহায়তা জন্য সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে সামাজিক সুরক্ষা খাতে। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বেড়েছেও এ খাতে। সামাজিক সহায়তার জন্য আগামী বাজেটে ৬২ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে সরকার, যা চলতি বছর রয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দ বেড়েছে ১৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। চলতি বছরের তুলনায় আগামী বাজেটে সামাজিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ৩১ দশমিক ৮০ শতাংশ। সামাজিক সহায়তার আওতায় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, বিধবা ভাতা, মা ও শিশু সহায়তা, বৃত্তি, উপবৃত্তি, বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা দেওয়া হবে।
আগামী বাজেটে সাধারণ ভর্তুকির আওতায় কৃষি, খাদ্য, ওএমএস ও রেশনের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে না। বরং কিছুটা কমেছে। কৃষি, খাদ্য, ওএমএস ও রেশনের জন্য আগামী বাজেটে মোট ৩৪ হাজার ৪৫ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এ বরাদ্দ চলতি বছরের তুলনায় ৯২০ কোটি টাকা কম। চলতি বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা।
সামাজিক সুরক্ষা খাতের মধ্যে সর্বজনীন রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা, সর্বজনীন জনকল্যাণসহ অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের তুলনায় ৪৫ কোটি টাকা কম। এ ছাড়া শ্রম বাজার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটে ছিল ৪ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। সে হিসাবে কর্মসংস্থানে ব্যয় কমবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।