আংশিক কমিটি হওয়ার প্রায় দুই বছরের মাথায় ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেল যুবদল। আজ বৃহস্পতিবার ঘোষিত এ কমিটি নিয়ে স্বস্তি যেমন আছে, তেমনি রয়েছে ক্ষোভও।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল— নতুন নেতৃত্বে সাজানো হবে কেন্দ্রীয় যুবদল। সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি নেতাকর্মীদের একাংশের। তাদের অভিযোগ, বিগত কমিটির কিংবা পদহীন থাকা অন্তত ৫৫ জনকে জায়গা দেওয়া হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে, যারা বিগত আন্দোলনে মাঠে ছিলেন না।
এর আগে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের ছয় সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে রেজাউল কবীর পল সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিল্লাল হোসেন তারেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কামরুজ্জামান জুয়েল সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নুরুল ইসলাম সোহেলকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছিল। পরে সহ-দপ্তর সম্পাদক করে মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়াকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
তিন বছরমেয়াদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষের বছরখানেক আগে আজ ঘোষণা করা কমিটিকে সান্ত্বনার পূর্ণাঙ্গ হিসেবেই দেখছেন নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, পদপত্যাশী নেতাকর্মীদের একটি রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার জন্য সাময়িক এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বহুদিন ধরে যাদের কোনো রাজনৈতিক ঠিকানা ছিল না, ছাত্রদলের এমন সাবেক নেতারা যেমন জায়গা পেয়েছেন কমিটিতে; তেমনি যুব সংগঠনের নেতৃত্বে পুরনো নেতাদের ওপর আস্থা রেখেছে বিএনপি। কমিটিতে একদিকে যেমন ত্যাগীরা মূল্যায়িত হয়েছেন, তেমন বাদ পড়েছেন জীবন বাজি রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাও। এতে ক্ষুব্ধ তারা।
যুবদলের বিগত কমিটিতে ছিলেন, কিন্তু নতুন কমিটিতে মূল্যায়িত হননি—এমন একজন নেতা জানালেন, যুবদলের বিগত (টুকু-মুন্না) কমিটির ২৫১ জনের মধ্যে অন্তত একটি মিছিল করেছেন এমন ৬২ জন নেতা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন বঞ্চিত হয়েছেন এই কমিটিতে।
দেখা গেছে, আগের কমিটির (টুকু-মুন্না) হেভিওয়েট নেতাদের অনেককেই রাখা হয়নি এই কমিটিতে। তাদের মধ্যে সহসভাপতি পর্যায়ের রুহুল আমিন আকিল, মাহবুবুল হাসান পিংকু, দীপু সরকার, কামরুজ্জামান দুলাল অন্যতম। যুবদলের আরেকজন হেভিওয়েট নেতা সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীনকেও রাখা হয়নি কমিটিতে।
এদিকে কমিটিতে জায়গা না পেয়ে ‘যুবদল কেন্দ্রীয় ফোরাম’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কয়েকজন নেতা। সেখানে একজন লিখেছেন, ‘মোনায়েম মুন্না ও নুরুল ইসলাম নয়ন ভাইয়ের প্রতি নেতাকর্মীদের বিশ্বাস ও আস্থা ছিল অনেক। মিছিলের জন্য হাজারো নেতাকর্মীর দরকার হতো। কিন্তু কমিটির ক্ষেত্রে যত ছোট আকারে করা যায়- এটা যদি নিয়ম হয়, তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক। আপনারা যে কমিটি দিয়েছেন, ২৮ অক্টোবরের পর তাদের ৫০জনকেও মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যায়নি। অনেকে রাজনীতি থেকে অবসরে চলে গিয়েছিলেন, তাদের বেশিরভাগ মূল্যায়িত হয়েছেন কমিটিতে।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘সকল কর্মসূচিতে থেকেও যদি কমিটিতে থাকা না যায়, তাহলে বলার আর কিছু থাকে না।’ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ‘মাই ম্যান’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে লিখেছেন আরেক নেতা। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সংগঠনের কয়েকজন জেলা সভাপতি-আহ্বায়ককে সরাসরি সহ-সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
হজ পালনের উদ্দেশ্যে বর্তমানে সৌদি আরবে আছেন যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। তিনি বলেছেন, ‘যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগীরাই মূল্যায়িত হয়েছেন। একটা কথা বলব, পুরনোদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আস্থা ও বিশ্বাসের একটা বিষয় আছে। আশা করি, যুবদল সে আস্থার প্রতিদান দিতে সক্ষম হবে।’
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ২৯ জন সহসভাপতি, ২৯ জন যুগ্ম সম্পাদক, ২৩ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক, ১২ জন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটিতে মাত্র ১১ জনকে সদস্য করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ সদস্যকে সহ-সাধারণ সম্পাদকের পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতিরা হলেন- জিয়াউর রহমান জিয়া, কামাল আনোয়ার আহাম্মদ, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, শাহ আলম চৌধুরী, সাইদুর রহমান, সাব্বির আহমেদ দিপু, আবদুল জব্বার খান, খন্দকার এনামুল হক এনাম, শরীফ উদ্দীন জুয়েল, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, রফিক আহমেদ ডলার, সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু, মোহাম্মদ ফিরোজ আবদুল্লাহ, মাহমুদুস সালেহীন, আতিকুর রহমান আতিক, জাকির হোসেন উজ্জ্বল, এইচ এম তসলিম উদ্দিন, নাজমুল আলম নাজু, মো. আনোয়ারুল হক, আবু সাঈদ আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র), রহিম উদ্দিন (যুক্তরাজ্য), ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, তরিকুল ইসলাম টিটু, ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মঞ্জুরুল আজিম সুমন, আজিজুর রহমান আকন্দ এবং নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে)।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা হলেন- মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম সোহাগ, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, শাহ নাসির উদ্দিন রুমন, কফিল উদ্দিন ভূঁইয়া, মঈনুদ্দীন রুবেল, আজহারুল ইসলাম মিলন, এজমল হোসেন পাইলট, ইখতিয়ার রহমান কবির, রবিউল ইসলাম নয়ন, সাজ্জাদুল মিরাজ, মিঞা মোহাম্মদ রাসেল, আবদুল করিম সরকার, শফিকুল ইসলাম শফিক, গোলাম মোস্তফা, আবুল মনসুর খান দীপক, খন্দকার আল আশরাফ মামুন, আইয়ুব খান, শামসুজ্জোহা সুমন, তারেক উজ জামান তারেক, শোয়াইব খন্দকার, আশরাফুর রহমান বাবু, আসাদুজ্জামান আসাদ, মো. আবদুল ওয়াহাব, হারুন অর রশীদ হিরো (সৌদি আরব), এম তমাল আহমেদ, সাজেদুল ইসলাম ও মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া (দপ্তরের দায়িত্বে)।