Image description

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির বিক্রয় আউটলেটকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা। তিনি দাবি করেছেন, ‘আপা’ ডাকার কারণে জরিমানা করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সত্য নয়। মূলত, বাসি খাবার বিক্রি করায় বনফুলের তাজপুর ব্রাঞ্চকে জরিমানা করা হয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও বলেন, বেশ কয়েকটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি আগেও বনফুলকে সতর্ক করেছি। কিছুদিন আগে আমি ক্রেতা সেজে বনফুলে মিষ্টি কিনতে গেলে দেখা যায় অনেক আগের বাসি মিষ্টি। কতদিন আগের মিষ্টি সেটা জানতে চাইলে উপস্থিত কর্মচারী একেকজন একেক ধরনের তথ্য দেন। আমি মিষ্টির চালান দেখতে চাইলে প্রথমে চালান দেখাতে না চাইলেও পরে আমার পুরো টিম আসার পর চালান দেখান। পরে এক কর্মচারী স্বীকার করেন- নতুন মিষ্টির সঙ্গে পুরোনো মিষ্টি মিলিয়ে বিক্রি করছেন।

 

তিনি বলেন, অভিযানের শুরুতে ম্যানেজার উপস্থিত ছিলেন না। তাকে নিয়ে আসতে বললে ওই কর্মচারী বের হয়ে যান, কিন্তু আর ফিরে আসেননি। বনফুলকে জরিমানা করা হলে যেহেতু আমরা প্রথমে কর্মচারীর স্বীকারোক্তি পেয়েছি, তাকে আসতে বলি। কিন্তু ম্যানেজার ফিরে আসার পর কর্মচারী পলাতক থাকায় তাকে ডেকে আনতে বলি। পরে, তিনি লোক মারফতে খুঁজে নিয়ে আসেন। তখন ওই কর্মচারী আমাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করে মাফ চান। সে সময় আমি বলেছি- ‘আমি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এখানে এসেছি।’

 

 

তিনি অভিযোগ করেন, এই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে গণমাধ্যমে ‘আপা’ শব্দটাকে হাইলাইট করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। হয়তো সেটা ভাইরাল করার জন্য করা হয়েছে।

 

মুনমুন নাহার আশা বলেন, আমাকে যে কেউ আপা ডাকতেই পারে, অনেকেই আপা-খালা ডাকে। আমি রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী, আপা ডাকা নিয়ে জরিমানা করার কোনো সুযোগ নেই, আপা ডাক কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, এটা আইনেও নেই।

 

এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সংবাদে বলা হয়েছে আমি জরিমানা করেছি কর্মচারীকে, কিন্তু বিষয় এমন নয়। আমি জরিমানা কোম্পানিকেই করেছি, কোম্পানির পক্ষে স্বাক্ষর দিয়েছেন তারা এবং ম্যানেজার কোম্পানির পক্ষে টাকা পরিশোধ করেছেন। যেহেতু এটা একটা কোম্পানি, কোম্পানির কাউকে না কাউকে তো স্বাক্ষর করতে হবে।