Image description

নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর। শুক্রবার (৫ জুন) নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়।

 

অনুষ্ঠিতব্য নিয়োগ পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় চরম হতাশা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো চাকরিপ্রার্থী। দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নেত্রকোনায় এসে পৌঁছানোর পর পরীক্ষার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের ডিও লেটারের (আধা সরকারি পত্র) পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৩ জুন জারি করা ওই চিঠিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়।

 

এর আগে গত ২ জুন জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজ এবং প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল, আগামী ৫ জুন শুক্রবার সকাল ১০টায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যাতায়াত ও আবাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন।

 

নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জেলার বিপুল সংখ্যক প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরীক্ষা উপলক্ষে অনেক প্রার্থী দূর-দূরান্ত থেকে নেত্রকোনায় এসে আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

 

সিলেটে অধ্যয়নরত মামুন নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, আমি দুই হাজার টাকা ধার করে পরীক্ষা দিতে এসেছি। বাড়ি নেত্রকোনায় হলেও পড়াশোনার কারণে সিলেটে থাকি। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ধার করা টাকাও খরচ হয়ে গেল, আবার পরীক্ষাও দিতে পারলাম না। এখন খুবই হতাশ লাগছে।

আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা অপ্রত্যাশিত ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিষয়টি আগে থেকেই জানানো হলে যাতায়াত, আবাসন ও অন্যান্য খরচ এড়ানো সম্ভব হতো।

 

এদিকে কয়েকজন অভিভাবক প্রশ্ন তুলে বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি কিংবা পরীক্ষাসংক্রান্ত কোনো দায়িত্বে নেই। কিন্তু তার ডিও লেটারের ভিত্তিতে পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, এটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। এখানে জেলা প্রশাসনের কিছু করার নেই। পরবর্তীতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

 

তিনি বলেন, নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে বর্তমান আবেদনকারীদের পুনরায় আবেদন করতে হবে না। তবে নতুন প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রাখা হবে।