Image description

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শিশু সোহাগী। বয়স ১২ বছর। দেহের ওজন ৮০ কেজি। শরীর ফুলে বেঁকে গেছে দুই পা।

 

উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের তাতারপুর গ্রামের (সরদারপাড়া এলাকা) বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম ও হাসিনা বেগম দম্পতির ছোট মেয়ে সোহাগী। দিনমজুর বাবা ও গৃহিণী মায়ের তিন কন্যা ও এক ছেলের মধ্যে সে সবার ছোট।

 

পরিবার জানায়, সোহাগীর বয়স যখন এক বছর, তখন থেকে তার পানি পানের প্রতি এক ধরনের অস্বাভাবিক টান দেখা যায়। মায়ের বুকের দুধ ছাড়ানোর পর থেকে পানি পানের প্রবণতা আরও তীব্র হতে থাকে। ধীরে ধীরে তার পেট ফুলতে শুরু করে এবং পা দুটি বেঁকে যায়। বর্তমানে একটু হাঁটলেই সে মারাত্মকভাবে হাঁপিয়ে ওঠে।

স্থানীয় চিকিৎসকদের দেখানো হলে তারা শিশুটিকে রাজশাহী বা ঢাকার কোনো হাসপাতালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। অর্থাভাবে সেই সুযোগ হয়ে ওঠেনি দিনমজুর বাবার। তবে সরকার থেকে প্রতিবন্ধি ভাতা পেয়ে থাকে সোহাগী।

 

সোহাগী নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বলে, অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে আমার চলাফেরা করতে অনেক কষ্ট হয়। গরমের মধ্যে এই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। আমি দৌড়াতে পারি না। খেলাধুলা করতে পারি না। সমবয়সী কেউ আমাকে খেলায় নিতে চায় না। স্কুলেও যেতে পারছি না।

 

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে–শিশুটির দেহে গ্রোথ হরমোনের মারাত্মক কোনো সমস্যা রয়েছে অথবা ব্রেইনে টিউমার থাকতে পারে। পরিবারটি কোনো সরকারি হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করেনি। দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

 

তিনি আরও জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে বিনামূল্যে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা নওগাঁ সদর হাসপাতালে শিশুটির সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন জেলা সিভিল সার্জন।