Image description

জমজম কূপের অবস্থান মক্কার মসজিদুল হারামের অভ্যন্তরে। এ কূপের পানি পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও সর্বোত্তম। সাধারণ পানির তুলনায় এর বিশেষত্ব ভিন্ন। এ পানি পানের নিয়ম রয়েছে। আছে দোয়াও। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জমজম ভূপৃষ্ঠের শ্রেষ্ঠ পানি। এতে রয়েছে খাদ্যের বৈশিষ্ট্য ও রোগ থেকে মুক্তি।’ (আলমুজামুল কাবির, তাবরানি, হাদিস: ১১১৬৭)

 

জমজম ধারণ করে আছে ত্যাগ ও বিসর্জনের এক ইতিহাস। এ পানি যেন পানি নয়, বরং হাজেরা-ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)-এর ত্যাগের বিনিময়ে আল্লহর রহমতের ঝরনাধারা।

 

কোনো উদ্দেশ্যে জমজমের পানি পান করা হলে আল্লাহ তা কবুল করেন। রোগমুক্তির জন্য পান করা হলে সুস্থতা দান করেন। হাদিসে আছে, ‘যে উদ্দেশ্যে জমজম পান করা হবে তা পূরণ হবে। যদি তুমি রোগমুক্তির জন্য তা পান করো আল্লাহ তোমাকে সুস্থ করে দেবেন।’ (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস: ১৭৩৯৮)

 

সাহাবি, তাবেয়ি, আল্লাহভীরু আলেম ও মুমিনরা জমজমের পানি পানের সময় বিভিন্ন নিয়ত করতেন, তাদের নিয়ত পূরণের অনেক ঘটনা অনেক বইয়ে লেখা আছে। হজরত উমর (রা.) হাশরের ময়দানে পিপাসিত না হওয়ার নিয়তে জমজমের পানি পান করতেন। হজরত আবু জর গিফারি (রা.) ইসলাম গ্রহণ করে যখন মক্কায় এসেছিলেন, তখন তিনি শুধু জমজমের পানি পান করে ৩০ দিন কাটিয়ে ছিলেন। (জাদুল মায়াদ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩৯৩)

 

জমজমের পানি পানের নিয়ম

পুরোপুরিভাবে পরিতৃপ্ত হয়ে জমজমের পানি পান করা সুন্নত। জমজমের পানি পানের আদব হলো—কেবলামুখী হয়ে পান করা, বিসমিল্লাহ বলা, তিন শ্বাসে পান করা, পরিতৃপ্ত হওয়া, শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা।

 

হজরত মুহাম্মদ (সা.) জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন। এ পানি দাঁড়িয়ে পান করা উত্তম ও আদব। তবে বসেও পান করা যাবে।

 

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর বলেন, ‘আমি ইবনে আব্বাসের কাছে বসা ছিলাম। এক ব্যক্তি তার কাছে এলো। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথা থেকে এসেছো? সে বলল, জমজমের নিকট থেকে। জানতে চাইলেন, তুমি কি তা থেকে প্রয়োজন মতো পান করেছো। সে বলল, কীভাবে? তিনি বললেন, তুমি যখন তা থেকে পানি করবে, তখন কিবলামুখী হবে, আল্লাহর নাম স্মরণ করবে, তিনবার নিশ্বাস নেবে এবং তৃপ্তি সহকারে পান করবে। পানি পান শেষে তুমি আল্লাহর প্রশংসা করবে। কারণ, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমাদের ও মুনাফিকদের মধ্যে নির্দশন এই যে, তারা তৃপ্তিসহকারে জমজমের পানি পান করে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩০৬১)

 

জমজমের পানি পানের দোয়া

 

জমজমের পানি পানের সময় একটি দোয়া পাঠ করা সুন্নত। দোয়াটি হলো—

 

اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ

 

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমা নাফিআ, ওয়া রিজকান ওয়াসিআ, ওয়া শিফা আম মিন কুল্লি দা ইন।

 

অর্থ: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান এবং হালাল প্রশস্ত রিজিক এবং সর্বপ্রকার রোগের সুস্থতা চাচ্ছি।