Image description

নির্মাণাধীন পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং বাধা দেওয়ায় নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পাবনা পৌর সদরের সাধুপাড়া ঝুটপট্টি এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মাসুদ রানা ওরফে কিলার মাসুদ (৩৫), একই এলাকার মৃত রুস্তম আলির ছেলে সজল আলি (৩২) এবং মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে ইসমাইল হোসেন ওরফে নকশাল ইসমাইল (৩৫)।

শুক্রবার দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রেজিনূর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পাবনার হেমায়েতপুর এলাকায় প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ চলছে। বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, সম্প্রতি অভিযুক্তরা নির্মাণকাজের সাইটে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাজিন কনস্ট্রাকশনের সাইট ম্যানেজার রফিজ উদ্দিনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৯ মে দুপুর ১টার দিকে তারা আরও কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।

এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তাকর্মী হাবিবুর রহমান ও ইমরানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একই সঙ্গে অফিস কক্ষের ড্রয়ারে থাকা এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এছাড়া অফিসের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাজিন কনস্ট্রাকশনের পাবনা অফিসের ম্যানেজার রকিবুর রহমান বাদী হয়ে ২০ মে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মামলার তিন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”