ঝিনাইদহের ঘটনায় ভিডিওর যুবককে দলীয় কর্মী বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে তাঁর হাতের বস্তুকে ‘সেফপি স্টিক’ এবং সেটি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি দলটির।
শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় এনসিপির মিডিয়াবিষয়ক উপসম্পাদক ইয়াসির আরাফাত স্ট্রিমকে বলেন, ‘ঝিনাইদহে কোনো পিস্তল ছিল না। সেটি ছিল একটি সেফটি স্টিক। যাঁরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে সেখানে নিরাপত্তা দিচ্ছিল, তাদের একজনকে এই স্টিক বা লাঠি বের করেন। এটিকে সামাজিক মাধ্যমে পিস্তল বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’
জুমার পরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন পৌর কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ, বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, এই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাশে থাকা এক যুবককে কোমর থেকে একটি বস্তু বের করতে দেখা যায়। পরে আরেকজন তাঁকে নিবৃত্ত করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ কথা বলার সময় তাঁর পেছন থেকে হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁর নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সাহেদ দাবি করেন, ঘটনার সময় এনসিপির নেতাকর্মীরা পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন। পুলিশ কেন এসব অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করছে না? তাদের গ্রেপ্তার করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও অনুরোধ জানান সাহেদ।

প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরও তাঁর ফেসবুকে এই বিষয়ে লিখেছেন, ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আশেপাশে স্কাই ব্লু টি-শার্ট পরিহিত কিছু যুবককে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হাতাহাতির ঘটনার সময় তাদের মধ্যে একজন কোমরে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র (সম্ভবত পিস্তল) বের করে গুলি করতেও উদ্যত হয়। ক্যামেরায় স্পষ্ট ধরা পড়েছে যে আরেকজন তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে, সে অস্ত্রটি আবার কোমরে লুকিয়ে ফেলে।
তিনি লেখেন, নিরাপত্তার জন্যে যেহেতু কেউ প্লাস্টিকের পিস্তল নিয়ে চলাফেরা করেন না। তাহলে প্রশ্ন হলো এই অস্ত্রটি বৈধ কিনা? একটু খোঁজ করলেই এই যুবকের পরিচয় জানা যাবে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং একইসঙ্গে যারা ডিম নিক্ষেপ করে নাসীরুদ্দীন ও তাঁর দলের অন্যান্য সদস্যদের আঘাত করেছে, তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
পরে এনসিপির মিডিয়া উইং থেকে রাতে জানানো হয়, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ‘অস্ত্র’ সদৃশ বস্তুটি যাঁর হাতে, তাঁর নাম আশিক বিশ্বাস। তিনি এনসিপির কর্মী বলে নিশ্চিত হয়েছে কেন্দ্র। মিডিয়া উইং আশিক বিশ্বাসের ভিডিও বক্তব্যও উপস্থাপন করেছে। তাতে আশিক বিশ্বাসকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। এটি ছিল একটি সেফটি স্টিক। এই স্টিক দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওপর আক্রমণ করেন। পরে সেটি আমি ছিনিয়ে নিয়ে আমার কাছে রেখে দিই। অনেকেই বলছেন– এটি পিস্তল ছিল, আসলে পিস্তল ছিল না। আমরা স্টিক থানায় হস্তান্তর করেছি।’
এনসিপির ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হামিদ পারভেজ জানিয়েছেন, হামলার পর তারা সদর থানায় আছেন। কিন্তু পুলিশ এখনো মামলা নেয়নি।