হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যস্ততার মধ্যেই হারিয়ে যায় সাত বছরের এক শিশু। চারদিকে মানুষের ভিড়, ট্রলির শব্দ আর যাত্রীদের কোলাহলের মধ্যে সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে ভেঙে পড়েন বাবা আজিজুল হক। পরে আনসার সদস্যদের দ্রুত তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, নেত্রকোণা থেকে আসা আজিজুল হক বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিমানবন্দরের ক্যানপি-২ এলাকায় ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। সন্তানের খোঁজে ছুটোছুটি করতে থাকা ওই বাবার উদ্বেগ নজরে আসে সেখানে দায়িত্বরত অঙ্গীভূত আনসারের এপিসি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীনের।
পরে আজিজুল হকের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের বিভিন্ন নিরাপত্তা চৌকিতে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। আনসার সদস্য শাকিল, রাশেদ, শরিফুল ও আনোয়ারকে নিয়ে শুরু হয় শিশুটিকে খোঁজার অভিযান।
এরপর পুরো বিমানবন্দর এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে হ্যান্ড মাইকে শিশুটির নিখোঁজের ঘোষণা দিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হয়।
দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর অবশেষে ক্যানপি-২ বাহির গেটের সামনে একা দাঁড়িয়ে কান্নারত অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান আনসার সদস্যরা। সেখান থেকেই তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান জানান, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও পরিচয় নিশ্চিত করার পর শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা আজিজুল হক। আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ঘটনাস্থলে থাকা যাত্রীদের অনেকেই আনসার সদস্যদের মানবিক ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
মো. আশিকউজ্জামান আরও বলেন, বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন