মৌচাক থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন নগরবাসীর কাছে এক চরম বিভীষিকাময় দুর্ভোগের নাম। ঢাকায় প্রবেশ করার পর ট্রাক এবং ভারী যানবাহনের একমাত্র এ সড়কটির বেহাল দশায় যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই লেগে যায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। যাত্রীদের অভিযোগ, যানজটের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মানসিক চাপ ও শারীরিক ক্লান্তি। অর্ধেক রাস্তা হকারের দখলে, মেরুলে ইউলুপ কোনো কাজে আসে না এবং বাসচালকদের সীমাহীন অনিয়ম এ দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শহর হয়ে গেছে মৃতদের শহর। বুধবার দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে সড়কটির নতুনবাজার এলাকায় আটকে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের সামনে দীর্ঘ যানজট। এগিয়ে গিয়ে দেখা গেল রাইদা পরিবহনের একটি বাস তার পেছনে থাকা একই পরিবহনের আরেকটি বাস আটকে রেখেছে বাঁকা করে। সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাসটি যাত্রী ওঠাচ্ছে। এ দুই বাসের প্রতিযোগিতার ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। আধা কিলোমিটার পেছনে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটি জানেও না কেন তারা আটকে আছে। বাসচালকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে রাইদা পরিবহনের চালক রাসেল মিয়া অবাক হয়ে বিরক্তি নিয়ে বলেন, ‘আমরা এভাবেই গাড়ি চালিয়ে অভ্যস্ত’। এমন দৃশ্য এখন বছরের পর বছর মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা হয়ে নতুনবাজার পর্যন্ত। পুরো সড়কে এই যাত্রী ভোগান্তি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সড়কের দুই পাশ দিয়ে দীর্ঘ যানজট এখন রাতদিন সারাক্ষণই লেগে থাকে। বিশেষ করে অফিস শুরুর ও ছুটির সময়ে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অনেক সময় রাত ২টা পর্যন্ত এ যানজট থাকে।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনা কোনো কিছুই কাজ করছে না। অধিকাংশ জায়গাতেই হকার ফুটপাত দখল করে আছে। গণপরিবহনগুলো যেখানে-সেখানে ইচ্ছামতো যাত্রী নামাচ্ছে-ওঠাচ্ছে। ফ্লাইওভার বা ইউলুপ যেগুলো আছে তা ঠিক করতে গিয়ে নিচের রাস্তার বেহাল দশা ঠিক করা হয়নি। এ ধরনের চ্যালেঞ্জিং একটা শহরে মানুষের মানসিক অনুভূতিগুলো আসতে থাকে। মৌচাক-নতুনবাজার রাস্তাটি সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যবহার করে। তাই এ রাস্তাটিতে মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। এখানে ট্রাফিক খুব বেশি, তাই এখানে ছোট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বড় বড় স্ট্রাকচারগুলো অ্যাফিসিয়েন্ট নয়। তিনি বলেন, এই শহর এখন হয়ে গেছে মৃতদের শহর, এরকম চ্যালেঞ্জিং শহরে মানুষের অনুভূতিগুলো হ্রাস পেতে থাকে। ন্যাশনাল ব্যাংক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র প্রভাষক স্নেহা রোজারিও বলেন, মৌচাক থেকে রামপুরার বাসায় পৌঁছাতে ১০ মিনিটের জায়গায় ৪০ মিনিট লাগছে প্রতিদিন। এতে এ এলাকার স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে প্রতিদিন।