Image description

কোথাও সড়কবাতি আছে, তবে আলো নেই। কোথাও আলো থাকলেও নিভু নিভু। আর কিছু এলাকায় বাতিই নেই। ফলে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো এলাকা।

এই সুযোগে বেড়ে যায় চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের উৎপাত। নীরবে-নির্বিঘ্নেই ঘটে যায় অপরাধ। রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক থেকে শান্ত আবাসিক এলাকাসবখানেই এই অভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দাসবার অভিযোগের তীর সিটি করপোরেশনের দিকে।

এক সপ্তাহ ধরে কালের কণ্ঠের কয়েকজন সাংবাদিক বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জগামী সড়ক, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগপারের নতুন আবাসিক অঞ্চল, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা, ফার্মগেট, বাংলামোটর, মগবাজার, হাতিরঝিল, শ্যামলী কিংবা আজিমপুর—বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। কোথাও প্রধান সড়কে বাতি নেই, কোথাও অলিগলি অন্ধকারে ডুবে থাকে পুরো রাত। স্থানীয়দের ভাষ্য, আলোকস্বল্পতার সুযোগে নিয়মিত ঘটছে চুরি, ছিনতাই ও মাদক কারবার।

অনেক এলাকায় রাতে একা চলাচল করাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এসব এলাকার বাসিন্দারা কালের কণ্ঠকে জানান, সিটি করপোরেশন নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স নিলেও মৌলিক নিরাপত্তাসেবার অন্যতম উপাদান সড়কবাতি নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে সন্ধ্যার পর রাজধানীর অনেক আবাসিক এলাকা হয়ে ওঠে আতঙ্কের জনপদ। এতে সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে নিরাপদ বোধ করেন না অনেকেই।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, যেসব স্থানে অন্ধকার থাকে এবং সড়কবাতি থাকে না, সেসব স্থানে চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেশি হয়।

এসব অপরাধপ্রবণ এলাকাকে আলোকিত রাখা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। আবার সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা  করলেও বাতি চুরি হয় বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতা তো সিটি করপোরেশনের জানার বাইরে না। শুধু সড়কবাতি স্থাপন করলেই হবে না, এগুলো মনিটর করাও তাদের দায়িত্ব। তাদের মনিটরিং খুবই দুর্বল। তাদের দুর্বলতার সুযোগেই অপরাধ বাড়ছে। সিটি করপোরেশন তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় রাজধানীবাসী চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

দেড় যুগেও সড়কবাতি পায়নি নতুন হাউজিংগুলো  : মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জ সড়ক ঘিরে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগপারে গত দেড় যুগে গড়ে উঠেছে ডজনখানেক নতুন আবাসিক এলাকা। ২০০৯ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু চালুর পর দ্রুত বাড়তে থাকে এসব হাউজিং প্রকল্প। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সেখানে পৌঁছায়নি পর্যাপ্ত সড়কবাতি। সন্ধ্যার পর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অন্ধকারই এখন চুরি, ছিনতাই ও মাদক কারবারের অন্যতম বড় সহায়ক।

সরেজমিনে তুরাগ হাউজিং, চন্দ্রিমা হাউজিং, বছিলা সিটি হাউজিং, ওয়েস্ট ধানমণ্ডি হাউজিং, মেট্রো হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, একতা হাউজিং, নবীনগর ও চাঁদ উদ্যান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ সড়কেই পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই। কোথাও কয়েকটি বাতি থাকলেও সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। আবার অনেক বাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

সবচেয়ে বড় আবাসিক প্রকল্পগুলোর একটি বছিলা সিটি হাউজিংয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একটি সড়কবাতিও চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যুৎ চলে গেলে তিনটি ব্লকের ৩৬টি সড়ক পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে যায়। একই অবস্থা মেট্রো হাউজিং ও আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোতেও।

ঢাকা উদ্যানের বাসিন্দা ও একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক শেখ তৌফিক কালের কণ্ঠকে বলেন, মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের জন্য ঢাকা উদ্যান বা বছিলা এলাকা এখন জনপ্রিয়। কিন্তু সড়কবাতির অভাবে চুরি-ছিনতাই নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আমিও দুইবার চুরির শিকার হয়েছি। অন্ধকার সড়কে অপরাধী সহজেই পালিয়ে যেতে পারে। বছিলা সিটি হাউজিংয়ের বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী অর্পিতা অমি বলেন, আমাদের এলাকায় ঠিকমতো একটিও সড়কবাতি নেই। গত ঈদের আগে বাবার ফোন ছিনতাই হয়ে গেছে।

চন্দ্রিমা হাউজিং ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ রাস্তাই অন্ধকার। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সিটি করপোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স নিচ্ছে। অথচ সড়কবাতি লাগায় না। দু-একটি বাতি আছে, সেগুলো হাউজিং কর্তৃপক্ষ নিজেরা লাগিয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এখানে ৩০ থেকে ৪০ জন নিরাপত্তাকর্মী কাজ করলেও তাদের বেশির ভাগই স্থানীয় বখাটে ছেলে। সিটি করপোরেশনের কার্যকর নজরদারি নেই।

এলাকার আরেক বাসিন্দা লিপন শেখ বলেন, এখানে নিয়মিত ছোটখাটো চুরি হয়। এসির তামার পাইপ, বিদ্যুতের কেবল, বাথরুমের গ্লাস, এমনকি মিটার পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়। মাঝেমধ্যে ছিনতাইও হয়।

গত ৪ মে চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে দুই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এতে হৃদয় (২৩) নামের এক দোকানকর্মী আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

নবোদয় হাউজিং ও কাটাসুর এলাকায়ও সড়কবাতির সংকট প্রকট। স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট জুবায়ের আলম বলেন, কাটাসুরে ঢুকতেই বেশির ভাগ রোড লাইট নষ্ট। গুরুত্বপূর্ণ গলিগুলোও অন্ধকার থাকে। রাতে পুলিশের টহলও কম।

আদাবর থানার মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকার ব্যবসায়ী মো. মোসলেম বলেন, শাখা সড়কগুলো অন্ধকার থাকে। এ জন্য নিয়মিত চুরি-ছিনতাই হয়। পাশাপাশি মাদকের কারবারও বাড়ছে।

লালমাটিয়া প্রধান সড়কেও অনেক জায়গায় বাতি নেই। এ এলাকার বাসিন্দা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এলাকায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় মানুষ আতঙ্কে থাকে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরে থানাটিতে দস্যুতার মামলা হয়েছে ৩৬টি, চুরির মামলা ৭১টি এবং হত্যা মামলা ২২টি। একই সময়ে আদাবর থানায় ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে ১৬টি, চুরির মামলা ৩২টি এবং হত্যা মামলা পাঁচটি।

তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে অপরাধের সংখ্যা আরো বেশি। অনেক ঘটনায় মামলা পর্যন্ত হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোহাম্মদপুর থানার এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০টি ছিনতাইয়ের অভিযোগ আসে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মামলা না হয়ে জিডি হয়। গত ১০ বছরে নতুন নতুন হাউজিং গড়ে উঠলেও সড়কবাতি বাড়েনি। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। ফলে অপরাধ বাড়ছে।

বাড্ডা-রামপুরা-হাতিরঝিল অন্ধকারে : এদিকে ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল সড়কটিতেও সড়কবাতি নেই। হাতে গোনা দু-একটি বাতি দেখা গেলেও আলো নিভুনিভু করে। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া রামপুরা, বাড্ডা ও হাতিরঝিল এলাকায় সড়কবাতির স্বল্পতা দেখা গেছে। খোদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাই এ কথা স্বীকার করেন।

একই অবস্থা বাড্ডা, রামপুরা ও হাতিরঝিলেও। বাড্ডার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন, রামপুরা ব্রিজ থেকে বাড্ডা সুবাস্তু টাওয়ার পর্যন্ত প্রধান সড়কের বেশির ভাগ বাতি নষ্ট। প্রধান সড়কেই ছিনতাই হয়।

সড়কবাতি স্থাপনের বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে হাতিরঝিল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, এখানকার সড়কে পর্যাপ্ত বাতি লাগাতে থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশনে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে করপোরেশন এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

ছিনতাইয়ের বিষয় স্বীকার করে তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে এখানে (হাতিরঝিলে) ছিনতাই হয়। অন্ধকারের জন্য সমস্যা বেশি হচ্ছে। আলো থাকলে অপরাধ কম হতো, এটাই স্বাভাবিক।

উত্তরা যেন অপরাধীর আখড়া : ভয়াবহ নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছে উত্তরাবাসীও। প্রায়ই এই এলাকায় কোনো না কোনো চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। আবাসিক এলাকার বেশির ভাগ রাস্তাই অন্ধকার। আলোর স্বল্পতার কারণে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। অনেক সময় মাদকসেবীরা মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য এসব চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। রাস্তায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে অভিযোগ এখানকার বাসিন্দাদের।

গত বৃহস্পতিবার উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৫, ৬, ৭, ১৩ ও ২০ নম্বর সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কবাতি থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ২০ নম্বর সড়কে পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় প্রায়ই চুরি-ছিনতাই ও মাদক সেবনের ঘটনা ঘটছে।

৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর রোডের বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। লাইট না থাকার কারণে এখানে যেমন মাদক সেবনের ঘটনা ঘটছে, তেমনি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। প্রায়ই কারো না কারো বাসায় চুরি হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর টহলও সেভাবে চোখে পড়ে না।

কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো ঘটে গভীর রাতে। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও অনেক সময় চোর রাস্তার পাশের বন্ধ দোকানগুলোতে লুকিয়ে থাকে। তখন আর তাদের দেখা যায় না।

সংকটে আরো যত এলাকা : শ্যামলী এলাকায় সড়কবাতির সংকট দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজন জানায়, এই সংকট কৃত্রিম। অন্ধকার এলাকায় মাদক কারবার সহজ হয়। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনকে তাগাদা দিয়েও কাজ হয় না। শেরেবাংলানগর থানা ছাত্রদলের এক নেতা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বরতদের নিয়মিত ফোন করে সড়কবাতি ঠিক করতে বললেও তাঁরা ঠিক করেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই নেতা বলেন, সড়কবাতি ঠিক করার জন্য সিটি করপোরেশনকে বললে তারা ডেসকোর কাছে পাঠায়। আবার ডেসকোর কাছে গেলে সিটি করপোরেশনের কাছে পাঠায়। কিন্তু কাজটা তো সিটি করপোরেশনের।

সড়কবাতির স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাবুবাজার, গির্জা গলি, কেমিক্যাল রোড এলাকায় সড়কবাতির স্বল্পতা রয়েছে। এসব এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

আজিমপুরেও সড়কবাতির বেহাল। ফলে নিয়মিত অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. হোসাইন বলেন, নীলক্ষেত থেকে আজিমপুর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রধান সড়কের বেহাল। পুরো সড়কে অল্প কয়েকটি বাতি সচল রয়েছে। ইডেন, গার্হস্থ্য কলেজের গেটের আলোয় রাতে চলাচলে কাজ দেয়। এ ছাড়া বাকি সড়কই অন্ধকারে। বিশেষ করে বিপরীত পাশের সড়ক। আজিমপুর কলোনির পাশের রাস্তায় কোনো সড়কবাতি নেই। একই অবস্থা একবারে নীলক্ষেত থেকে আজিমপুর ম্যাটার্নিটি পর্যন্ত। তিনি বলেন, আজিমপুরের নিউ পল্টন লাইন থেকে সেকশন সড়কটি নিউমার্কেট আসা হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীর চর প্রধান সড়কেও বাতি নেই। সড়কের মোড় বাদে বাকি সড়কবাতিগুলো দীর্ঘদিন অচল। গোটা আজিমপুরে সড়কবাতির অভাবে বেশির ভাগ এলাকা ভূতুড়ে। গাবতলীর খালেক সিটি সড়কেও একই অবস্থা।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য : সড়কবাতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, সড়কবাতি অকেজো কিংবা কোনো কারণে বন্ধ থাকলে আমরা অভিযোগ পেলে সেগুলো দ্রুত মেরামত করে দিই। দীর্ঘদিন সড়কবাতি নেই এমন কোনো জায়গা থাকার কথা না।

ফ্লাইওভার, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কেও সড়কবাতি অকেজো থাকছে নিয়মিতএমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, মহাখালী, কুড়িল ফ্লাইওভারের সড়কবাতির তার কয়েক দিন পরপরই চুরি হয়ে যাচ্ছে। তাই সেখানে সমস্যা হয়। তবে আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করি। বিভিন্ন সড়কেও সড়কবাতি, তার চুরি হয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের ভোগাচ্ছে।

তাঁর দাবি, ‘আমরা যেকোনো এলাকা থেকে অভিযোগ পেলে সেখানে সড়কবাতি স্থাপনসহ মেরামত করে আসছি। লোকবলসংকটের কারণে কিছু জায়গায় একটু সময় লাগছে। নতুন এলাকাগুলোতে প্রকল্পের কাজ চলমান, তাই প্রকল্পের আওতায় সড়কবাতিও স্থাপন করা হবে।’