Image description

সংসদ লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা ৮৫ হাজারের বেশি। গত তিন মাসে এই লাইব্রেরি ব্যবহার করেছেন প্রায় ৭০ জন এমপি। রেজিস্টার খাতায় ব্যবহারকারী হিসেবে ২০১ জনের নাম লেখা থাকলেও ঘুরেফিরে একই এমপিরা ব্যবহার করেছেন লাইব্রেরি। তবে একমাত্র মন্ত্রী হিসেবে দুবার লাইব্রেরি ব্যবহার করেছেন সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। রেজিস্টার অনুযায়ী অন্য কোনো মন্ত্রী লাইব্রেরির পথে হাঁটেননি।

বেশির ভাগ এমপি এখান থেকে পড়েছেন দৈনিক পত্রিকা। কেউ আবার সংগ্রহ করেছেন পত্রিকার নিউজ ক্লিপিংস। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে সংসদে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিতর্ক, কিছু বই ও কার্যপ্রণালি বিধি পড়তে গেছেন এমপিরা। কোনো কোনো এমপি সংসদের লাইব্রেরি থেকে ফটোকপিও সংগ্রহ করেছেন। গত তিন মাসে বই সমৃদ্ধ সংসদের এই লাইব্রেরি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন বিরোধী দল জামায়াতের জয়পুরহাট-১ আসনের এমপি মো. ফজলুর রহমান সাঈদ। তিনি ১৫ বার লাইব্রেরিতে গিয়েছেন বিভিন্ন বই, পত্রিকা ও বিতর্ক পড়তে। ১৪ বার লাইব্রেরি ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন-মৌলভীবাজার-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এর বাইরে নওগাঁ-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ইকরামুল বারী টিপু লাইব্রেরিতে গিয়েছেন ছয়বার, স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা গিয়েছেন পাঁচবার ও এনসিপিদলীয় এমপি আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) গিয়েছেন পাঁচবার। এদিকে চলতি মাসের ৩ তারিখে একযোগে ৪৯ জন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে শপথ নেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাত্র দুজন নারী এমপি সংসদ লাইব্রেরি ব্যবহার করেছেন। তারা হলেন- আরিফা সুলতানা ও তাসমিয়া প্রধান।

১২ মার্চ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলেও এমপিরা লাইব্ররি ব্যবহার শুরু করেছেন ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম লাইব্রেরি ব্যবহার করেন তিনজন এমপি। তারা হলেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের এনসিপিদলীয় এমপি আতিকুর ইসলাম মোজাহিদ, পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার ড. মাওলানা নাজিবুর রহমান মোমেন ও একই দলের পিরোজপুর-১ আসনের মাসুদ সাঈদী। সংসদ সচিবালয়ের লাইব্রেরির এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিরোধীদলীয় এমপিরা এখন পর্যন্ত লাইব্রেরি বেশি ব্যবহার করেছেন। অর্ধেকের বেশি এমপি দৈনিক পত্রিকা পড়েছেন। কেউ কেউ ক্লিপিংস সংগ্রহ করেছেন। কয়েকজন এমপি তাদের ব্যক্তিগত সহকারী পাঠিয়ে পত্রিকার কিছু ক্লিপিংস সংগ্রহ করেছেন। তিনি জানান, পত্রিকার পাশাপাশি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি- বিধি সংশ্লিষ্ট বইগুলো পড়ার প্রতি নতুন সংসদ সদস্যদের আগ্রহ দেখা গেছে বেশি।

সংসদ লাইব্রেরি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লাইব্রেরি। এখানে দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদবিষয়ক বইও আছে। আছে আইন ও বিচার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, নৃতত্ত্ব, ধর্ম, ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ের দুর্লভ বই। এখানে ডিবেট অব বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি (১৯৩৭-১৯৪৬), ডিবেট অব পাকিস্তান কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (১৯৪৭-১৯৬৯), ডিবেটস অব দ্য ইস্ট পাকিস্তান লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি (১৯৪৮-১৯৬৯), পাকিস্তান গ্যাজেট (১৯৪৮-৭১), ঢাকা গ্যাজেট (১৯৪৮-৭১), বাজেট অব পাকিস্তান, সামারি অব প্রসিডিংস অব দ্য বাংলাদেশ পার্লামেন্ট (১৯৭২-১৯৯৯), অর্ডিন্যান্স, রাষ্ট্রপতির অর্ডারসহ যাবতীয় আইনও আছে। ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রধান দৈনিক সংবাদপত্রের সব সংখ্যাই সংরক্ষিত আছে সংসদের লাইব্রেরিতে।

চার ধরনের পাঠক এই লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদের মধ্যে রয়েছেন- বর্তমান এমপি, সাবেক এমপি, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও অনুমতি নিয়ে আসা গবেষকরা। এখন পর্যন্ত কোনো গবেষক সংসদ লাইব্রেরি ব্যবহার করেননি বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিকে সংসদ লাইব্রেরি দেখভালের জন্য ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে সভাপতি করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন আশরাফ উদ্দিন নিজান, ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সাঈদ আল নোমান, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মো. নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন। লাইব্রেরির উন্নয়নে এ কমিটি এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে।