Image description
বুধবার একনেকে উঠছে প্রকল্প প্রস্তাব আন্তঃরাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থার প্রথম নিজস্ব ভবন ভিত্তি ১৫ তলার, আপাতত হবে ১০ তলা নির্মাণ ব্যয় ১২২ কোটি টাকা

প্রথমবারের মতো কোনো আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংস্থার নিজস্ব ভবন তৈরি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। সংস্থাটি হলো বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের বহুমাত্রিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা (বিমসটেক)। ২৯ বছর আগে ঢাকায় কাজ শুরু করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর এই জোটের সচিবালয়। এতদিন একটি পুরনো ভবনে চলছিল কাজ। এবার নতুন ভবন পেতে চলেছে বিমসটেক সচিবালয়, তাও নিজস্ব।

ঢাকার গুলশানে ১৫ তলা ভিত্তির ওপর তৈরি হবে ১০ তলা ভবন, যা নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ১২২ কোটি টাকা।

আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘বিমসটেক সচিবালয়ের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ’ নামের একটি প্রকল্প তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে হবে এ বৈঠক।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের এক কর্মকর্তা প্রকল্পটি উপস্থাপনের বিষয়টি আগামীর সময়কে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বললেন, ‘আমরা উপস্থাপন করব। অনুমোদন হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে একনেকের ওপর। তবে আমরা মনে করি, গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে এটি অনুমোদন দেওয়া দরকার। কারণ এর সঙ্গে বাংলাদেশের মানসম্মানও জড়িত।’

বর্তমানে যে ভবনটিতে অফিস চলছে সেটি অনেক পুরনো জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলছিলেন, ভবনটির কাজের পরিবেশ উন্নত নয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকার ও বিমসটেকের মধ্যে সই হওয়া সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী সচিবালয়ের জন্য উপযুক্ত প্রাঙ্গণ এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের সব প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেজন্যই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একনেকে অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

একনেকের জন্য কার্যপত্র তৈরি করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) এম এ আকমল হোসেন। সেখানে তিনি বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে বাস্তবায়ন করা হবে।

১৯৯৭ সালে ৬ জুন ব্যাংককে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকে এই আন্তঃআঞ্চলিক জোট গঠন করা হয়। সভায় অংশ নেওয়া মূল আলোচকদের দেশের নামের প্রথম অক্ষর অনুযায়ী জোটের নামকরণ করা হয় বিআইএসটিইসি। পরে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানকে সংগঠনের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়া হয়। ২০০৪ সালের ৩১ জুলাই প্রথম আনুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে বিমসটেক করা হয়। এটির সদর দপ্তর স্থাপন করা হয় বাংলাদেশে।

সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য হলো, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বঙ্গোপসাগর উপকূলের দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা। এক্ষেত্রে ১৪টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো— ব্যবসা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পর্যটন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন, মৎস্য সম্পদ, যোগাযোগব্যবস্থা, পোশাক ও চামড়া শিল্প।

২০০৮ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হয় বিমসটেকের দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে একটি স্থায়ী সচিবালয় ভবন তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে মিয়ানমারের প্রশাসনিক রাজধানী নাইপোতে বিমসটেকের ১৩তম মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলনে সংগঠনটির সদর দপ্তর ঢাকা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকার গুলশান-২-এর ৫৩ নম্বর রোডে অবস্থিত এনডব্লিউ (আই)-০৬ নম্বর সরকারি বাসাটি বিমসটেক সচিবালয়কে বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুইতলার এই বাসাটি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্ধন করে ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে।