রাজধানীতে এখন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের উৎপাত বেড়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শপিং মল, গণপরিবহন, বাসাবাড়িতে তারা হামলে পড়ছে। হিজড়া নামে পরিচিত এসব সম্প্রদায়ের সদস্যরা তালি বাজিয়ে ‘এই ভাইয়া বোনদের জন্য কিছু টাকা দেও’ বলে বিভন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে টাকা আদায় করছে। টাকা দিতে না চাইলে শুরু হয় গালাগালি এবং উদ্ভট আচরণ। মানুষকে বিব্রত অবস্থায় ফেলে টাকা দিতে বাধ্য করে তারা।
রাজধানীর আবদুল্লাহপুর, উত্তরা, এয়ারপোর্ট, বনানী, মহাখালী, মিরপুর, গুলিস্তান, গাবতলীসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে এখন এমন দৃশ্য দেখা যায় প্রতিদিন। এমন ঘটনায় অফিসগামী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী সবার পকেট থেকে খসে যাচ্ছে টাকা। সরেজমিন রাজধানীর বিভন্ন রুটের সিগন্যাল, বাসস্টপ, মার্কেট ঘুরে দেখা যায় সাধারণ মানুষ তৃতীয় লিঙ্গের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছে। গতকাল আশুলিয়া থেকে আসা নাবিল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আবদুুল্লাহপুরে বাস থামালে চারজন হিজড়া বাসে ওঠে। তারা তালি বাজিয়ে এবং মাথায় হাত দিয়ে প্রত্যেক যাত্রীর কাছে টাকা চাইতে শুরু করে। আমি দিতে না চাইলে জোরজবরদস্তি শুরু করে। এক সময় গালাগালি এবং কাপড় খুলে ফেলার হুমকি দেয়। ১০ টাকা দিতে চাইলে রাজি হয় না, পরে ২০ টাকা দিলে চলে যায়। বনানীর আশপাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোকানপ্রতি সাপ্তাহিক চাঁদা ২০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত। রানি বেগম নামের এক খাবার বিক্রেতা বলেন, বেচাকেনা হোক বা না হোক তাদের সাপ্তাাহিক চাঁদা ৩০০ টাকা দিতে হয়। সপ্তাহে এক দিন এসে টাকা নিয়ে যায় তারা। পয়লা বৈশাখ, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে টাকার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। যাদের বড় দোকান তাদের সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা দিতে হয়।
কোনো পরিবারে বাচ্চা জন্ম নিয়েছে জানতে পারলে বড় অঙ্কের চাঁদা চেয়ে বসে। খিলক্ষেতের সবজি বিক্রেতা সুমন মিয়া কিছুদিন আগে ছেলে সন্তানের বাবা হয়েছেন। সুমন মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাচ্চাটাকে নিয়ে বাসায় আসার পরদিনই ৫-৬ জন এসে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ৫ হাজার টাকা দিয়ে তাদের বিদায় করি। আত্মীয়-স্বজনদের সামনে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ালে সম্মান থাকবে না।
তৃতীয় লিঙ্গের সুমি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পেট চালাতে এসব করতে হয় আমাদের। সামাজিকভাবে আমাদের কেউ স্বীকৃতি দেয় না। নেওয়া হয় না কোনো চাকরিতে। এসব না করলে বেঁচে থাকা কষ্ট হয়ে পড়বে। গতকাল সন্ধ্যায় খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডে তৃতীয় লিঙ্গের মজিলার দেখা মেলে। তিনিও আগে বাসে বাসে টাকা আদায় করতেন। এখন এসব ছেড়ে দিয়ে স্ট্যান্ডে বসে দৈনন্দিন ব্যবহার করা যায় এমন পণ্যের ব্যবসা করছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগের জীবনটা ভালো ছিল না। বাসে বাসে টাকা তোলা, ঝগড়া, গালাগালি প্রতিদিনের ঘটনা ছিল। মানুষকে হয়রানি করাটা ছিল শুধুই বেঁচে থাকার জন্য। এসব আমার কখনো ভালো লাগেনি। কিছু টাকা জমিয়ে এ ব্যবসা শুরু করেছি ৭-৮ বছর আগে। এটা দিয়ে যা পাই তাতেই চলে এখন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভিক্ষুক, চা শ্রমিক ও হিজড়া) মো. শাহ জাহান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে শুরু হয়েছে। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রয়েছে শিক্ষা উপবৃত্তি, ভাতা, প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ-উত্তর সহায়তা। এখন পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৬২৯ জন এ সেবা গ্রহণ করেছে। এ কার্যক্রমের অংশ হতে তাদের উৎসাহ দিই। কিন্তু‘ জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারছে না।