হবিগঞ্জে আকস্মিক বন্যায় প্রায় সাত হাজার হেক্টর বোরো জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, তলিয়ে যাওয়া জমির মধ্যে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর পুরোপুরি এবং ৩ হাজার হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হলো জেলার লাখাই, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা।
চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান, যা থেকে প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এখন পর্যন্ত মোট আবাদকৃত জমির প্রায় ৫৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্যে প্রায় ৪ শতাংশ জমি তলিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। বর্তমানে মাঠে থাকা বাকি ৪১ শতাংশ জমির বড় অংশই তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এরই মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় বানিয়াচং উপজেলার শতমুখা এলাকায় খোয়াই নদীর উত্তর পাড়ের বাঁধের একটি অংশ প্রবল স্রোতে ভেঙে যায়। ফলে চারটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক হাওরে পানি প্রবেশ করছে।
প্লাবিত হাওরগুলোর মধ্যে রয়েছে শতমুখা, পূর্ববিলা, আন্দারআব্দা, পঁচাবিল, ভুট্টুক, খালপাড়, সিঙ্গারবিল, কালীবাড়ির ঢালি, মাইজের কান্দা, আউডাতৈল, চণ্ডীপুর, হাঘা ও সুজাতপুর। এসব হাওরের অধিকাংশ জমি ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।